দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ইরানে পৃথক দুটি সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্তকারী দল। বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা এই প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ‘ইরানবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান মিশন’ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ: জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের ‘শাজারেহ তায়েবেহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সরাসরি দায়ী। ওই হামলায় অন্তত ১২০ জন শিক্ষার্থীসহ ১৫০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়া ও অসত্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই নির্বিচার হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যা আন্তর্জাতিক আইনে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ।
এছাড়া, ফারস প্রদেশের লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়াকেন্দ্রে মার্কিন হামলার বিষয়েও সমরূপ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে জাতিসংঘ মিশন। যেখানে অন্তত ২২ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে দাবি করেছিলেন যে, কোনো স্কুলে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালানো হয়নি।
ইরান সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধ: অন্যদিকে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্ত করে মিশন জানায়, সেখানে ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—
ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক হিসেবে বিক্ষোভে ৩,০৩৮ জন নিহত ও ২৫ হাজার আহত হওয়ার কথা বলা হলেও জাতিসংঘের মতে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রতিবেদনটির বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্থায়ী মিশন তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই তাদের অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার দাবি করে আসছে এবং ইরান মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।