দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
বাজারে বৈধ তামাকজাত পণ্যের পাশাপাশি অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে নকল ও চোরাই সিগারেট। রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব অবৈধ পণ্যের সহজলভ্যতা ও কম দামের কারণে একদিকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীন রাসায়নিকের প্রভাবে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যে। বিশেষ করে তরুণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী কম দামি এসব নকল ও চোরাই পণ্যে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
কারখানায় রাজস্ব ফাঁকির ছদ্মবেশ: সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ধরা পড়ে দেশীয় কারখানায় নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহারের বড় চিত্র। গত ২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাওলতিয়া এলাকার ‘ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেড’-এ ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে ভ্যাট চালান ছাড়া বিপুল সিগারেট সরবরাহের প্রমাণ মেলে। তদন্তকারীদের হিসাবে, প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এ ঘটনায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর এনবিআরের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে চোরাচালানের কৌশল: একদিকে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, অন্যদিকে বিদেশ থেকে লাগেজ ব্যাগেজের মাধ্যমে নিয়মিত আসছে বিদেশি সিগারেটের অবৈধ চালান। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি বছর জুনে ১,৬৯৮ কার্টন, মে মাসে ১,৩৪৫ কার্টন এবং গত ১৭ আগস্ট দুবাইয়ের এক ফ্লাইটে ১,৮০২ কার্টন সিগারেটসহ প্রায় ৫.৫৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ করা হয়। বড় চালান কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিতে চোরাচালানি চক্রগুলো প্রবাসীদের লাগেজে খণ্ড খণ্ড করে এসব পণ্য পাঠায়, এমনকি ধরা পড়ার ভয়ে অনেক সময় ব্যাগেজ স্ক্যানারের বেল্টেই মালপত্র ফেলে রেখে সটে পড়ে।
উপজেলা পর্যায়ে নকল ব্র্যান্ডের বিস্তার: শুধু শহর বা বিমানবন্দরই নয়, জেলা-উপজেলার প্রত্যন্ত বাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে অনুমোদনহীন ভুয়া ব্র্যান্ডের সিগারেট। জামালপুরের ইসলামপুরে ‘সিটি’, ‘ম্যানশন’, ‘ওসাকা’ নামের নানা অজ্ঞাত সিগারেট পাইকারি এনে গ্রামীণ বাজারে পৌঁছানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কম দামের কারণে আসল পণ্যের বদলে এসব ক্ষতিকর নকল সিগারেটের দিকে ঝুঁকছেন।
কঠোর আইন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ এ এম আবু তাহের জানান, তামাক এমনিতেই ক্ষতিকর, তদুপরি মানহীন ও অনিয়ন্ত্রিত নকল সিগারেট সেবনে ফুসফুস, মুখের ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নতুন সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে এনবিআরের উচ্চ কর কাঠামো এড়াতে করা এই বিপুল রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালান বন্ধে মাঠপর্যায়ে কঠোর অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।