দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রাকৃতিক জলবায়ুপ্রক্রিয়া ‘এল নিনো’ শক্তিশালী থেকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাব আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তীব্র থাকবে এবং এর ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ব জলবায়ুতে বহাল থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডব্লিউএমও জানায়, মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশের পানি অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, বৃষ্টিপাত ও বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। ফলে বিভিন্ন দেশে খরা, আকস্মিক বন্যা ও রেকর্ড তাপপ্রবাহের মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এমনিতেই উর্ধ্বমুখী, তার ওপর এই শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হওয়াকে মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানান, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পানিসম্পদের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে এর বড় আঘাত আসতে পারে। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষগুলোকে এখনই আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এল নিনোর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর আবির্ভূত হওয়া এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হতে পারে। এর আগে অতি শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবেই ২০২৪ সাল বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল।