ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭–এর বিচারক সোহেল রানার সইয়ে একই ট্রাইব্যুনালের গাড়িচালক মো. আলী হোসেনের (বাচ্চু) বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই বিভাগীয় মামলার কার্যধারার বৈধতা কেন চ্যালেঞ্জ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বিভাগীয় মামলার আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গাড়িচালক আলী হোসেন গত মাসে রিটটি দায়ের করেছিলেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মো. বাকির হোসেন ও আবু সাদেক আবদুল্লাহ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট সকালে বিচারকের খাসকামরায় ডেকে নিয়ে গাড়িচালক মো. আলী হোসেনকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। চালকের দাবি, গাড়ির লগবইয়ে সময় উল্লেখ করা নিয়ে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে বিচারক তাঁর চোখে ঘুষি ও কানের ওপর থাপ্পড় মারেন। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসা নেন এবং চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধতে বাধ্য হন।
তবে ওই সময় ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলী হোসেনকে খাসকামরায় ডাকা হয়েছিল এবং বিচারক কেবল ধমক দিয়ে তাকে বের করে দিয়েছিলেন, সেখানে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসার পর গত ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বিষয়টি অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় এবং ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করে।
আইনজীবী যা বলছেন
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মো. বাকির হোসেন জানান, সুপ্রিম কোর্টের অনুসন্ধান কমিটি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিচারক সোহেল রানা গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ওই বিভাগীয় মামলাটি দায়ের করেন। এখানে বিচারক নিজেই বাদী এবং আবার তিনিই বিচারক—এমন আইনি ত্রুটির কথা উল্লেখ করে বিভাগীয় মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।