সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাঁকে কোনো ধরনের ‘মব’ বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না, বরং কেবল আইনি উপায়ে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ছাড়া দেশে উগ্রবাদী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দান, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “তিনি দেশে ফিরে এলে যথারীতি বিচারের মুখোমুখি হবেন। তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি; তাই দেশে ফেরার পর প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় যা হওয়া উচিত, ঠিক তা-ই হবে। উনি নিজে আসলে আমরা বরং খুশিই হব, তাহলে আর আইনি বাধ্যবাধকতায় বেঁধে আনার প্রয়োজন পড়বে না।”
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আরও বলেন, “এরশাদ সরকারের পতনের পরও কিন্তু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশেই ছিলেন, কারাবরণ করেছেন এবং পরবর্তীতে নির্বাচনেও অংশ নিয়েছেন। তখনো পুলিশ বাহিনী থানায় দায়িত্ব পালন করেছে।” শেখ হাসিনার ওপর কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না জানিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শেখ হাসিনা অতীতে কখনো কারও প্রতি ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করেননি, কিন্তু আমাদের সরকার তাঁর সঙ্গে পূর্ণ ন্যায়বিচারই করবে।”
সম্প্রতি এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দিতে বাধা দেওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল এই অন্যায্য ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থেকে কাজ করেছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ধরনের অপরাধমূলক ঘটনার পরিণতি সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই ভোগ করতে হবে।”
মৃতদেহের প্রতি অবমাননাকর আচরণের তীব্র সমালোচনা করে ডা. জাহেদ বলেন, “একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহের প্রতি এমন আচরণ দেশের সচেতন মানুষ কখনোই ভালোভাবে নেননি। অতীতেও নানা বিচারিক প্রক্রিয়ার পর কিছু ব্যক্তির মরদেহের সঙ্গে এরূপ আচরণ করা হয়েছিল, যা সংশ্লিষ্ট বিচারের সমর্থকদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়নি। একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর তাঁর প্রকৃত বিচার বিধান করবেন সৃষ্টিকর্তা। যারা সমাজে মৃতের সঙ্গে এ জাতীয় আচরণ করেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত সমাজের কাছে নিন্দিত ও ধিকৃত হবেন।”
(সূত্র: ইত্তেফাক/এনএন)