ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে বেতন-মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা চরম উত্তেজনার পর পুলিশ একাধিক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষের পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও এলাকা জুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
টিয়ারশেল, ইটপাটকেল ও সড়কে আগুন
সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে কাঠ ও বিভিন্ন বস্তুতে আগুন জ্বালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। আধ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
আন্দোলনের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের খাবারের বিরতির পর নারায়ণগঞ্জের কাঠেরপুল এলাকার ‘আবীর ফ্যাশন’-এর শ্রমিকেরা কাজে না ফিরে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে ‘মেট্রো নিটওয়্যার’, ‘মাইক্রো ফাইবার’ ও ‘আজাদ নিট কম্পোজিট’সহ আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে আরও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে যুক্ত হন।
স্তব্ধ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ প্রাথমিক বাধা দেয়। তবে পুলিশের সেই বাধা অতিক্রম করে তারা মূল সড়কে অবস্থান নিলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিকেলে জালকুড়ি এলাকায় আন্দোলনকারীরা সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে কড়া অ্যাকশনে যায় এবং টিয়ারশেল প্রয়োগ করে বিকেল ৫টার দিকে সড়ক মুক্ত করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য
ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, “শ্রমিকদের বেতন-মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে পুলিশ সচেতন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে যৌথভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।”
পুলিশের কড়া অবস্থান ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের পর জালকুড়ি এলাকায় শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে বর্তমানে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয়েছে।