দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সরকারের ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য ক্রমাগত কমছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে সরকারের নিয়মিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এলপিজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, “জ্বালানি বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজির মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের ওপর কতটা চাপ পড়ে, তা সরকার অবশ্যই বোঝে। আমরা জনগণের কল্যাণের কথা বলি, তারপরও যে মূল্য বৃদ্ধি করা হলো—তা দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই করা হয়েছে।”
ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অনেকেই ভারতের রান্নার গ্যাসে ভর্তুকির বিষয়টি না জেনেই কেবল দামের তুলনা করেন। সরকারের সামনে ভর্তুকি দিয়ে দাম নাগালের মধ্যে রাখার সুযোগ থাকে, কিন্তু আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়, যা জাতীয় রিজার্ভের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে। ফলে সরকারের পক্ষে কতটা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
চলতি অর্থবছরের ভর্তুকির বাজেট চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সর্বমোট ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মাত্র আড়াই মাসের মাথায় এই বাজেটের অর্ধেক অর্থাৎ ২৪ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ভর্তুকি বাবদ খরচ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি ইউনিট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ৩০ ডলারে কিনতে হচ্ছে, যা ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল বা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৪ ডলার ছিল।”
জ্বালানি সংকট ও বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতাকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করে উপদেষ্টা বলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি অর্থনীতি সামলে সরকারকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে কোথায় কতটুকু ছাড় দেওয়া সম্ভব। দাম বৃদ্ধির প্রভাব জনজীবনে পড়ছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে অন্য খাতে ইতিবাচক সংস্কারের সুযোগ তৈরি হলে সরকার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করবে। কিন্তু সরকারের ভর্তুকি প্রদানের সামর্থ্য যে দিন দিন কমছে, তা সবাইকে বিবেচনায় রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।