দেশে বেড়েই চলেছে হামের সংক্রমণ ও রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত) সারা দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৮ জন হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৮২ জন। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৪০০ জনে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৮২৩ জন হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৭৩ জন। উপসর্গ ও নিশ্চিত হামের রোগী মিলিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ জন, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫২ জন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ৫৮ জন মারা গেছেন। অন্যদিকে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫ জনে।
বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন করে ৫৪৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩৬ জন, সিলেটে ১৪২ জন, বরিশালে ১৩২ জন, ময়মনসিংহে ১০০ জন, খুলনায় ৯৪ জন, রংপুরে ৩৫ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৩৩ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দিলেও বিগত সময়ে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে গত মার্চ মাসে হাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এপ্রিলে দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। তবে সেই সময় প্রায় ৪০ লাখ শিশু হামের টিকা প্রাপ্তির বাইরে থেকে যায়। সরকারের তৎকালীন ব্যবস্থাপনায় এই ঘাটতির কারণেই এখনো হামের প্রকোপ এবং মৃত্যুর মিছিল থামছে না বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে দেশে হামে মৃত্যুর ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল এবং সংক্রমণও নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে চলতি বছর হামে রেকর্ড সংখ্যক সংক্রমণ ও মৃত্যুর পেছনে অতীতের টিকাদান কার্যক্রমে প্রশাসনিক গাফিলতি ও সমন্বয়হীনতাকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন গবেষক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।