দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো পরীক্ষার দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। ১ হাজার ১২২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৭ লাখ চাকরিপ্রার্থী। ফলে প্রতিটি পদের জন্য গড়ে লড়াই করবেন ৬২৪ জন। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত না হওয়ায় চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা।
বিধিসংশোধন ও পদের সংখ্যা হ্রাস ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) যখন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তখন পদের সংখ্যা ছিল ২,১৬৯টি। তবে পরবর্তীতে বিধিমালা সংশোধন করে মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির জন্য সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে সরাসরি নিয়োগের জন্য নির্ধারিত পদ কমে দাঁড়ায় ১,১২২টিতে।
আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা তৈরি হলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া থমকে যায়। সম্প্রতি আদালতের রায়ে সেই আইনি বাধা দূর হলেও পিএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যানের আকস্মিক পদত্যাগে নতুন প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর মাঝে গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে স্থগিত থাকা নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত গ্রহণ করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরীক্ষা আয়োজনের বৈচিত্র্যময় চ্যালেঞ্জ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত পিএসসিতে পাঠিয়েছে। এখন তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব পিএসসির। তবে প্রায় ৭ লাখ প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা এক দিনে এবং কেবল ঢাকা কেন্দ্রে আয়োজন করা পিএসসির জন্য একটি বিরাট প্রশাসনিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ। উল্লেখ্য, এই নিয়োগে ৯০ নম্বরের লিখিত ও ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে, যেখানে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ।
পদোন্নতিতেও দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষা একদিকে নতুন নিয়োগে ধীরগতি, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে পদোন্নতি প্রক্রিয়া। প্রাথমিকে অনুমোদিত ৬৫,৪৫৭টি প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে ৩৪,১৫৯টি পদই খালি। সহকারী শিক্ষকরা জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বিদ্যালয়গুলো চালাচ্ছেন। গত জুনে আপিল বিভাগের রায়ে ১৩ বছরের পদোন্নতির আইনি বাধা কাটলেও, হাইকোর্টের রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি (সার্টিফাইড কপি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে না পৌঁছানোয় প্রশাসনিক কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
ফলশ্রুত, একদিকে সরাসরি নিয়োগপ্রার্থীদের প্রহর গোনা, অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের পদোন্নতির দীর্ঘ প্রতীক্ষা—এই দুই জটিলতায় দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট কাটছেই না।