দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে শেষ হয়েছে খেলোয়াড়দের নিবন্ধন প্রক্রিয়া। আর এতেই দেখা যাচ্ছে দেশের ক্লাবগুলোতে বদলে যাওয়া এক চিত্র—দিন দিন চাহিদা বাড়ছে সাফ অঞ্চলের ফুটবলারদের, বিশেষ করে হিমালয়কন্যা নেপালের প্রতি ঝুঁকেছে দলগুলো।
গত মৌসুম থেকে সার্কভুক্ত দেশের ফুটবলারদের ‘স্থানীয় খেলোয়াড়’ হিসেবে গণনার নিয়ম চালু হয়। এবার স্থানীয়দের দাবিতে সাফের কোটা ৫ জন থেকে কমিয়ে ৩ জন করা হলেও, দলগুলোতে এই অঞ্চলের ফুটবলারের উপস্থিতি বেড়েছে। গত মৌসুমে সাফের কোটায় ১১ জন থাকলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে—যার মধ্যে ১৪ জনই নেপালি!
নেপালিদের প্রতি ক্লাবের আগ্রহের মূল কারণ জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলির মতে, এটি মূলত দুই পক্ষের জন্য লাভজনক এক হিসাব। তিনি বলেন, “ক্লাবগুলো কম খরচে মানসম্মত খেলোয়াড় পাচ্ছে। অন্যদিকে নেপালি ফুটবলাররা নিজেদের দেশের লিগের চেয়ে বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি পারিশ্রমিক পান, যার ফলে তারাও এখানে খেলতে আগ্রহী হচ্ছেন।”
শীর্ষ ক্লাবগুলোর প্রস্তুতি ও বিদেশি কোটা চলতি মৌসুমে লিগে ক্লাবের সংখ্যা ১০টি থেকে বেড়ে ১৩টি হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি ক্লাবই সাফ কোটা ব্যবহার করেছে।
অন্যান্য ক্লাবের সমীকরণ ফর্টিস এফসি নেপালের দুই জাতীয় ফুটবলার আরিক বিস্তা ও অনন্ত তামাংয়ের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কান গোলকিপার সুজন পেরেইরা এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাপানি ফরোয়ার্ড সুকি ইতোফুসোকে দলে নিয়েছে। ব্রাদার্স ইউনিয়ন নেপালের সাকাল রেগমি ও পাকিস্তানের দুজনকে দলে নেওয়ার পাশাপাশি রেখে দিয়েছে জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে। এছাড়া রহমতগঞ্জ, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, চট্টগ্রাম সিটি ক্লাব, সিটি ক্লাব ও পিডব্লিউডিও একাধিক নেপালি ও পাকিস্তানি ফুটবলার নিয়ে দল গুছিয়েছে।
নতুন দেশের ফুটবলের স্বাদ এবারের মৌসুমে বেশ কিছু অপ্রচলিত দেশের ফুটবলারদেরও দেখা যাবে বাংলাদেশের মাঠে। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স নিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার বাইলে জন ও ইন্দোনেশিয়ার আইদিল উসমানকে। এছাড়া ব্রাদার্সে আয়ারল্যান্ডের উইলিয়াম ওদুয়া এবং পিডব্লিউডিতে জার্মানির উলরিচ বালোকি নতুন অভিজ্ঞতা জোগাবেন ফুটবলপ্রেমীদের।