দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ আরও তিন বছর (২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত) বর্ধিত সময় পাচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন নীতি কমিটি (ইউএন-সিডিপি) এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বাংলাদেশের আবেদনের যৌক্তিকতা বিবেচনা করে ইতিবাচক সুপারিশ করেছে, যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পরবর্তী অধিবেশনে অনুমোদিত হতে পারে।
সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় উত্তরণ তদারকি ও সমন্বয় কমিটি’র সভায় ‘ন্যাশনাল রোডম্যাপ ফর স্মুথ, সাসটেইনেবল অ্যান্ড ইরিভার্সিবল এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন (২০২৬-২৯)’ শীর্ষক চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী মন্দা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও রিজার্ভ সংকট এবং ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতার কারণে সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে থাকায় এই অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করা হয়েছিল। তবে এ সময়সীমাকে দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ হিসেবে না দেখে ২০২৯ সালের মধ্যেই অর্থনীতিকে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও উৎপাদনমুখী শিল্প অর্থনীতিতে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে পাঁচ স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি তিন ধাপের এ সংস্কার পরিকল্পনায় ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তব জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানো, কর-জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশে নেওয়া এবং খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অপ্রচলিত খাতের রপ্তানি বৃদ্ধি, বাণিজ্য চুক্তি (FTA/PTA) সম্পাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ১৬ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো রোডম্যাপ বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেট, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে।