দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ২২৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৭ জনই স্কুল পর্যায়ের। সামাজিক সংগঠন ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষায় প্রকাশিত এই তথ্যে দেখা যায়, গত আট মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৮ জন শিক্ষার্থী জীবনের ইতি টেনেছেন। আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে আয়োজিত আলোচনায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সামাজিক সংগঠন ও সরকারের প্রতিনিধিরা আত্মহত্যাকে শাস্তিযোগ্য ‘অপরাধ’ নয়, বরং একটি ‘মানসিক সমস্যা’ হিসেবে বিবেচনা করে ১৮৬০ সালের ব্রিটিশ আমলের দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ১৩২ জন নারী ও ৯২ জন পুরুষ শিক্ষার্থী। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্য কলহ, মানসিক বিষণ্নতা, পড়াশোনার চাপ, আকস্মিক রাগ ও মাদকাসক্তি এসব আত্মহননের প্রধান কারণ। শহরের তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তার প্রবণতা (৮.২%) গ্রামাঞ্চলের (৩.৭%) চেয়ে দ্বিগুণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপাত্ত তুলে ধরে বক্তারা জানান, ২০২৪ সালে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার হার যা ছিল, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে আইনবিদ ও বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিকে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য সাবেক ব্রিটিশ কলোনিভুক্ত দেশগুলো অনেক আগেই এ আইন রদ করেছে। আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ ও আইসিডিডিআর,বি-এর বিশেষজ্ঞরা জানান, আইনটির কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তি আইনি জটিলতার ভয়ে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন বা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আরও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে জানান, আইনগত ফ্রেমওয়ার্ক পরিবর্তন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।