দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও বেনামি ঋণের কবলে পড়ে চরম ঝুঁকিতে পড়া আইএফআইসি ব্যাংক পর্ষদ পুনর্গঠনের দুই বছর পর আজও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক পর্ষদ ভেঙে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহমুদ হোসেনকে চেয়ারম্যান করে নতুন পর্ষদ গঠন করলেও ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক সূচকের দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি; বরং খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি ও লোকসানের পরিমাণ দিন দিন আরও বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন শেষে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৩,৭৫৬ কোটি টাকা (৮.৭২%)। তবে লুকানো তথ্য ও ভুয়া ঋণ বের হয়ে আসার পর চলতি ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮,২৭৭ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৬৩.৩৮ শতাংশ। মূলত সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তাঁর সহযোগীদের বেনামি কোম্পানির নামে তুলে নেওয়া সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার বড় একটি অংশ এবং সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতারা পলাতক থাকায় এ অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।
খেলাপির এই রেকর্ড বৃদ্ধিতে ব্যাংকের নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২১,৮৯৩ কোটি টাকায় এবং মূলধন ঘাটতি পৌঁছেছে ২৭,৫৫৪ কোটি টাকায়। এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এদিকে চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই ব্যাংকটি ১,৬৬৮ কোটি টাকার পরিচালন লোকসান গুণতে বাধ্য হয়েছে। উপরন্তু, বর্তমান পর্ষদ ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও সুশাসনের ঘাটতির অভিযোগ উঠায় সম্প্রতি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনর্গঠিত পর্ষদগুলোর সার্বিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।