দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষাকারী দেশগুলোর ওপর নজিরবিহীন ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে হুমকি দিয়েছেন, তাকে তিনি ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ (Economic D-Day) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো তেহরানকে সর্বাত্মক অর্থনৈতিক চাপে ফেলা। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব-নিকাশের সম্পূর্ণ বিপরীতে মোড় নিচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে মিত্রদের ওপর জোরজবরদস্তি ও একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে এই নীতি আমেরিকাকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা পুনর্গঠন করার বদলে তার পতনকেই আরও তরান্বিত করছে।
মিত্রহীন একা আমেরিকা
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালিত এই ব্যয়বহুল ও ভুল ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে মিত্র দেশগুলো কেন যোগ দিচ্ছে না, তার কারণ স্পষ্ট:
কূটনীতির দুই হাতিয়ারের চরম ব্যর্থতা
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অন্য দেশকে নিজের পক্ষে টানতে মূলত দুটি পথ ব্যবহৃত হয়—প্ররোচনা (বোঝানো) এবং হুমকি (ভয় দেখানো)। ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষেত্রে এখন দুটির একটিও কাজ করছে না। ‘কার্নেগী এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ট্রাম্পের এই তথাকথিত ‘ডি-ডে’ আসলে মার্কিন প্রশাসনের জন্য এক চরম ‘হতাশার দিনে’ (Day of Desperation) পরিণত হয়েছে।
বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট
অন্য দেশকে নিজ নীতিতে আস্থাশীল করতে মূল ভিত্তি হলো অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিশ্বাস করতে হয় যে, মার্কিন সরকারের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত এবং তা অর্জনের ক্ষমতা তাদের আছে। তবে অসংলগ্ন তথ্য উপস্থাপন ট্রাম্পের বিশ্বাসযোগ্যতাকে তলানিতে ঠেকিয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, তিনি গত বছরের জুনে দাবি করেছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে এবং মার্চেও দাবি করা হয় দেশটির সামরিক শক্তি ‘আক্ষরিক অর্থেই পঙ্গু’ করা হয়েছে। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন হওয়ায় বিশ্বনেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের হুংকারকে গুরুত্বহীন মনে করছেন। ফলস্বরূপ, বিশ্বব্যবস্থায় আমেরিকান একচ্ছত্র আধিপত্য এখন শেষ বিকেলের ছায়ার মতো ফিকে হয়ে আসছে।