নাটোরে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় আগের এক তরুণ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। লালপুরে কিশোর সোহেল রানা (১৫) নামের এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে মোজাফফর হোসেন মন্টু (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই মামলায় অপর দুই অভিযুক্তকে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে আসামিদের সরাসরি উপস্থিতিতে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর হোসেন মন্টু লালপুর উপজেলার পুরাতন ঈশ্বরদী এলাকার মুনসাদ আলীর ছেলে। অন্যদিকে মামলার দায় থেকে খালাসপ্রাপ্ত দুজন হলেন— একই এলাকার মৃত শামসের প্রামাণিকের ছেলে রেজাউল করিম এবং মৃত মোকছেদ আলী প্রামাণিকের ছেলে মুক্তার আলী।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে লালপুরের পুরাতন ঈশ্বরদী মাঠে নিজেদের জমিতে বাবা মুকুল হোসেনের সঙ্গে কলাগাছ রোপণ করতে গিয়েছিল তরুণ সোহেল ও তার ভাই সোহাগ। এ সময় পূর্ব শত্রুতা বা বিরোধের জেরে রেজাউল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মুক্তার আলী লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে আকস্মিক তাদের জমিতে এসে হামলা চালায়।
হামলার সময় মোজাফফরের এলোপাতাড়ি লাঠির আঘাতে কিশোর সোহেল গুরুতর জখম হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ঘটনার প্রায় ছয় দিন পর অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সোহেল না ফেরার দেশে চলে যায়।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহত সোহেলের বাবা মুকুল হোসেন বাদী হয়ে একই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি লালপুর থানায় রেজাউল করিম, মোজাফফর হোসেন ও মুক্তার আলীর নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেন। পরবর্তীতে সোহেল মারা যাওয়ার পর সেই এজাহারটি নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় এবং পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্ত হন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
মামলার রায় প্রসঙ্গে নাটোর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, আদালত দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা ও উভয় পক্ষের শুনানির পর আজ আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এছাড়া আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তের কাছ থেকে আদায়কৃত পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে মামলা পরিচালনা বাবদ এক লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা থাকবে এবং বাকি চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে মামলার বাদী বা এজাহারকারীকে প্রদান করা হবে।