1. admin@banglarakash.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টার প্রতিবাদে উত্তাল রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পারিবারিক সিন্ডিকেট ও মনোপলি রোধে বড় আইনি জয়: সারের ডিলারশিপ মামলা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য দেশের অর্থনীতিতে ফের বাড়ল মূল্যস্ফীতি: গ্রামীণ জনপদে সাধারণ মানুষের ওপর চাপের মাত্রা বেশি ২০০২ সালের হত্যা মামলা: নাটোরে আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিলেন আদালত ৩০টির বেশি ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সেবা বন্ধ: কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তলব বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি ঘটাল আর্জেন্টিনা এলএনজি আমদানিতে আকাশচুম্বী ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ সত্ত্বেও কাটছে না দেশজুড়ে গ্যাস-সংকট উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ: গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে আহত ১০ রূপগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর জলসিঁড়ির লেকের ঝোপ থেকে নারী বাবুর্চির লাশ উদ্ধার শীতের আগে তীব্র তেল সংকটের আশঙ্কা: ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের সতর্কবার্তা ভিটোলের সিইওর

উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টার প্রতিবাদে উত্তাল রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৭ Time View
ছবিঃ সংগৃহিত

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে কার্যালয়ে হেনস্তা করার পর জোরপূর্বক কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বের করে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহীর চিকিৎসক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর প্রতিবাদে তাঁরা পৃথকভাবে দুটি মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করেছেন।

আজ বুধবার বেলা একটার দিকে নগরীর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকায় চিকিৎসকরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধন থেকে চিকিৎসকরা উপাচার্যকে হেনস্তার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

কর্মসূচিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি এস এম তপু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যদি এভাবে হুমকির মুখে পড়ে, তবে সাধারণ চিকিৎসকরা কতটা নিরাপদ পরিবেশে সেবা দিচ্ছেন—সেটি নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১ হাজার ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা অতিরিক্ত রোগীর চাপ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিচ্ছেন।

সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে এস এম তপু আরও বলেন, ‘আমরা কখনোই চাই না কর্মবিরতির মতো কর্মসূচির কারণে সাধারণ কোনো রোগী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হোক। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আমরা কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব।’

রাজশাহীর মেডিকেল কলেজের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও এনডিএফের কলেজ শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেশের সমগ্র চিকিৎসক সমাজের প্রতি আহ্বান জানাই, এই ধরনের অসুস্থ “মব কালচার” বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। চিকিৎসকরা সবসময় রোগীদের সেবা ও অস্ত্রোপচার নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন, তারা অহেতুক রাস্তায় নেমে এভাবে বারবার প্রতিবাদ করতে চান না।’ এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা রোধে প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও এনডিএফের কলেজ শাখার দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের একজন অত্যন্ত সম্মানিত নাগরিক ও উপাচার্য যদি নিজ কার্যালয়ে নিরাপদ না থাকেন, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি অধ্যাপক জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে আনীত যেকোনো অভিযোগের একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার অনুরোধ করেন।

উক্ত মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের নারীবিষয়ক সম্পাদক তাসনিয়া আক্তার এবং ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ইফতিয়ার হোসেন।

অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একটি প্রতিবাদী মানববন্ধন করেন। সেখান থেকেও উপাচার্যকে হেনস্তাকারী দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়।

এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ জাকির হোসেন খোন্দকার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহ আলম, কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক শাহ মো. বদরুদ্দোজা, পরিচালক নজিবুর রহমান, পরিচালক নাজিমউদ্দীন আহমেদ, উপ-রেজিস্ট্রার মোয়াফখারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক আশরাফুল হক, উপ-কলেজ পরিদর্শক মনির-উল-ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক খাইরুল আলমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য হেনস্তা ও মামলার আপডেট

এর আগে গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে উপাচার্যের কক্ষে জোরপূর্বক একটি কাগজে স্বাক্ষর করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। উপাচার্যের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁকে কাগজটি পড়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং স্বাক্ষর না করলে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে পারেন—এমন প্রবল আশঙ্কার মুখেই তিনি বাধ্য হয়ে সেই নথিতে সই করেন। তাঁর ধারণা, ওই কাগজটি মূলত একটি পদত্যাগপত্র ছিল।

এই ঘটনার রেশ ধরে গতকাল রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা প্রদান, দপ্তরে ভাঙচুর ও বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় পুলিশ আবদুস সালাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও ও ছবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে অন্যান্য অপরাধীদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই বাকি আসামিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো উপাচার্যের কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। আজ বেলা আড়াইটার দিকেও দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। যদিও উপাচার্য নিজে কার্যালয়ে উপস্থিত না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথারীতি অফিসে এসেছেন এবং দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের লাইন ইতিমধ্যে মেরামত করা হলেও ইন্টারনেট সংযোগ এখনো সচল হয়নি বলে জানিয়েছেন উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী মো. নাজমুল হোসাইন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT