আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট কারচুপি ও জালিয়াতি সম্পর্কিত তথ্য প্রদানকারীকে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের জয়ের দাবিকে পুনরায় সামনে নিয়ে আসতে এবং আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় তৈরি করার উদ্দেশ্যেই সোমবার তিনি এই নতুন ঘোষণা দেন।
নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “অতীতের নির্বাচন বা আসন্ন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেউ ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও সাজা নিশ্চিত হলে, তথ্যদাতাকে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে!” তবে এই বিশাল অংকের পুরস্কারের তহবিল কোথা থেকে প্রদান করা হবে কিংবা এর কার্যপদ্ধতি কেমন হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আট দিন আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে যে, মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এই নির্বাচনে জয়ী হলে তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও ট্রাম্প বহুবার নির্বাচন নিয়ে ভিত্তিহীন জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, দেশটিতে ভোট জালিয়াতি বা বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকদের বাইরে অন্য কারও ভোট প্রদানের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং ফেডারেল আইন অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।
নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে ট্রাম্প আরও বেশ কিছু বড় ও অভাবনীয় প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে নগদ অর্থ অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি খরচ হবে, যার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া, রিপাবলিকানরা জয়ী হলে উত্তর ক্যারোলাইনার একটি সামরিক ঘাঁটিতে দূষিত পানির কারণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়া সাবেক সেনা সদস্যদের বিশেষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ট্রাম্প।