1. admin@banglarakash.com : admin :
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা খেল প্রাইভেটকার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখলে কমেছে সিগারেটের প্রকৃত দাম মেহেরপুরের গাংনীতে অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ, চলতি বছরে আক্রান্ত ৪১৩ জন ফরিদপুরে গ্রামীণ ঐতিহ্যের টানে নদীর বুকে জমজমাট ভেলা ও চাড়ি বাইচ সালথায় অবৈধভাবে সার পরিবহনের দায়ে ডিলারের জরিমানা র‍্যাগিং প্রতিহত করায় ইবি শিক্ষার্থীকে বয়কট ও মারধরের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৪৪ ধলেশ্বরী নদীর তীব্র ভাঙনে সিরাজদীখানে ১৫ পরিবার ঝুঁকিতে মধুখালীতে ৮ শতাংশ জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে চাচাকে পিটিয়ে হত্যা ফরিদপুরে কলেজছাত্রকে ট্যাটা দিয়ে জখম করার ঘটনায় তরুণ গ্রেপ্তার

মেহেরপুরের গাংনীতে অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ, চলতি বছরে আক্রান্ত ৪১৩ জন

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩২ Time View
Anthrax-Infected-Patients-Upazila-Health-Complex
ছবি : সংগৃহীত।

দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্থায়ী অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক কাটছেই না। পশুবাহিত এই সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতি বছর শত শত মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও রোগটি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিগত ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৯৮ জনে। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪১৩ জন।

সংক্রমণের কারণ ও আক্রান্তের দীর্ঘ চিত্র:

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদিপশুর মাংস ও রক্তের সংস্পর্শে আসার কারণেই মূলত মানুষের শরীরে এই জীবাণু ছড়ায়। অসচেতনতার ফলে অনেক সময় অসুস্থ বা হঠাৎ মারা যাওয়া গরু-ছাগল জবাই করে মাংস কাটাকাটি করার সময় মানুষের শরীরে জীবাণু প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়।

হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১০ সালে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৫ জন। এরপর ক্রমান্বয়ে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে—২০১৩ সালে ১৯৯, ২০১৬ সালে ২৪০, ২০১৮ সালে ৪০৮, এবং ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ ৬৬০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। করোনা ও পরবর্তী বছরগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত ছিল—২০২২ সালে ৬৪৪, ২০২৩ সালে ৭৯২, ২০২৪ সালে ৬৮৬ এবং ২০২৫ সালে ৬০৭ জন রোগী চিকিৎসা নেন। চলতি বছরের শুধু চলতি মাসেই নতুন করে ৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

আক্রান্তদের অভিজ্ঞতা:

গাংনী পৌরসভার ঝিনেরপুল এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ খাতুন জানান, সম্প্রতি তার একটি ছাগল হঠাৎ মারা যায় এবং আরেকটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি সেটি জবাই করে মাংস নাড়াচাড়া করেন ও খান। কদিন পরই তার শরীরে পক্সের মতো ছোট ক্ষত দেখা দেয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে তিনি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করা এসব দরিদ্র পরিবার গবাদিপশু এভাবে হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

চৌগাছা গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, দুটি ছাগল মারা যাওয়ার পর আরেকটি অসুস্থ ছাগল জবাই করার তিন দিন পর তার দুই হাতের দুটি আঙুলে ঘা ও তীব্র ব্যথা শুরু হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ আছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংকট ও কার্যক্রম:

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানুষের তথ্য সংরক্ষিত থাকলেও ঠিক কতটি গবাদিপশু এই রোগে মারা গেছে, তার পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কাছে। তবে বিপুলসংখ্যক পশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী কাজিপুর, তেঁতুলবাড়িয়া ও মটমুড়া ইউনিয়নে এর প্রকোপ বেশি থাকলেও এখন তা পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৯ সাল থেকে একটি প্রকল্পের আওতায় কিছু খামারিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

তবে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র জনবলসংকট। গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ১১টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৭টি পদই শূন্য রয়েছে। ভেটেরিনারি সার্জন, চারজন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ), কৃত্রিম প্রজনন কর্মকর্তা এবং অফিস সহায়কের পদ খালি থাকায় সব গবাদিপশুকে সময়মতো টিকা দেওয়া ও নিয়মিত নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য:

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ইসতিয়াক আহমেদ মাসুদ জানান, অসুস্থ গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া থেকে অ্যানথ্রাক্স ছড়াচ্ছে। হাসপাতালে নিয়মিত রোগীরা আসছেন এবং সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে অসুস্থ পশুপাখি জবাই না করার জন্য সাধারণ মানুষকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘শুধু গবাদিপশুকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স পুরোপুরি দমন করা সম্ভব নয়; এর জন্য খামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শতভাগ টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও জনবলসংকটের কারণে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT