বিগত দিনের সংকট ও নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে বর্তমান সরকারের বিশেষ পদক্ষেপে দেশের দুই কোটিরও বেশি শিশুর কাছে সফলভাবে টিকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, “অতীতের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সেই সংকট কাটিয়ে বর্তমান সরকারের গত সাত মাসের নিবিড় তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপে দুই কোটিরও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।”
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইল্যান্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ফলাফল অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
ড. এম এ মুহিত উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় পূর্ববর্তী প্রশাসনের ব্যর্থতা ও জটিল সংকটের সরাসরি ফল হিসেবে সারাদেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল।
সেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত সাত মাসে মাঠপর্যায়ের নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক শিশুকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।”
তবে সতর্কবার্তা দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হামের প্রাদুর্ভাব এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়ে গেছে। তাই ইপিআই কার্যক্রমে চিহ্নিত সীমাবদ্ধতা ও সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে।”
কর্মসূচির ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রম একসময় বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি অত্যন্ত সফল ও প্রশংসিত মডেল হিসেবে পরিচিত ছিল। দীর্ঘ বছর ধরে এই ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি আমাদের দেশের শিশুদের অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করেছে এবং দুর্গম প্রান্তিক অঞ্চলেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বিগত সময়ের চরম অব্যবস্থাপনার দরুন এই ঐতিহাসিক সফল কার্যক্রমে মারাত্মক ছন্দপতন ঘটেছিল।”