কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে অবস্থিত ‘টুপটুপ’ নামে একটি আবাসিক রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে একই পরিবারের ৬ জন সদস্য রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন পর্যটক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ওই রিসোর্টটিতে আকস্মিক আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা আশিকুল নামের এক ব্যক্তির পরিবারের ৬ সদস্য রয়েছেন। তাঁরা হলেন— মেলিতা মেহেজাবিন আলভি, নাবিলা, মালিহা, মিলা, জেরিফ ও ফাইজান।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে আহত ৬ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত পর্যটকরা হলেন— মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০), সামিদা (৩২), নাফিজা নওয়ার খান (২৯) ও সাহাবুদ্দিন (৩১)।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বেলা ১১টার দিকে জানান, দুর্ঘটনার সময় রিসোর্টটির খাতায় মোট ২৭ জন পর্যটকের নাম এন্ট্রি ছিল। তাঁদের মধ্যে ৯ জন ঘটনার সময় রিসোর্টের বাইরে অবস্থান করছিলেন। ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পূর্ণ উদ্ধার তৎপরতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোরশেদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। এ ছাড়া আহত ৬ জনকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান নিশ্চিত করেছেন যে, হতাহতদের সবাই সেখানে বেড়াতে আসা পর্যটক ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরপরই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
(সূত্র: বিডি-প্রতিদিন/এমএল)