ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষপর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর রাজনৈতিক দল ‘লিকুদ পার্টি’ চরম পিছিয়ে পড়ার জোর শঙ্কায় পড়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত ২টায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব-ইসরায়েলি নাগরিক। এই আরব নাগরিকদের ভোটকেন্দ্রে রেকর্ড উপস্থিতির কারণে লিকুদ পার্টির আসন নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য পরাজয় এড়াতে সমর্থকদের শেষ মুহূর্তে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে রায় দেওয়ার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থা মূলত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই ব্যবস্থায় কোনো একক দলের বদলে প্রাপ্ত মোট ভোটের হারের ভিত্তিতে পার্লামেন্টের মোট ১২০টি আসনের বণ্টন নির্ধারিত হয়। তবে সরাসরি ভোটে প্রত্যাশিত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও সাংবিধানিক নানা জোটবদ্ধ রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে আবারও নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার সুযোগ থেকে যাচ্ছে। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে পরবর্তী সরকার গঠনের চারটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক দৃশ্যপট তুলে ধরেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রথম সমীকরণ: নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি এককভাবে তুলনামূলক কম আসন পেলেও তাঁর বর্তমান কট্টর ডানপন্থি মিত্র কিংবা সমমনা ছোট দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ অর্থাৎ ৬১টি আসন জোগাড় করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও আবার সরকারপ্রধান হিসেবে মসনদে বসার সুযোগ পাবেন তিনি।
দ্বিতীয় সমীকরণ: নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ক্ষমতায় আসার একটি জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আইজেনকোতের দল এককভাবে এগিয়ে থাকলে এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনতে সক্ষম হলে তারা নতুন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ২০২১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মতোই আরব দল ‘রা’ম’ আবারও বিরোধী জোটে যুক্ত হয়ে সরকার গঠনে মূল ‘তুরুপের তাস’ হতে পারে।
তৃতীয় সমীকরণ: ওয়াশিংটনের পরামর্শে একটি ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ গঠনের বিকল্প আলোচনাও টেবিলে রয়েছে। ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক সংকট নিরসনে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই কাঠামোর আওতায় দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোত একত্রে বসে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় প্রশাসন পরিচালনা করতে পারেন।
চতুর্থ সমীকরণ: এটি হলো একটি ‘সংখ্যালঘু সরকার’ গঠনের সম্ভাবনা। কোনো পরাশক্তি জোটই যদি স্পষ্ট ও স্থায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, তবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে ছোট ছোট দলগুলো পারস্পরিক সমঝোতা ও শর্তের ভিত্তিতে বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা চালাতে পারে।
(সূত্র: ইত্তেফাক/এনএন)