জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট মাঝআকাশে হঠাৎ বিমান ছিনতাই (হাইজ্যাক) আতঙ্ক ও বোমার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরবর্তীতে জরুরি পরিস্থিতিতে ফ্লাইটটির দিক পরিবর্তন করে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানের জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের সূত্র ধরে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিমানের ভেতরে থাকা সব যাত্রীকে সফলভাবে নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র একটি সূত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, এয়ার ইন্ডিয়ার ‘এআই-২০৩০’ (AI-2030) নম্বর ফ্লাইটটি বুধবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিমানটিকে তড়িঘড়ি রানওয়ে থেকে সরিয়ে একটি বিচ্ছিন্ন স্থানে (আইসোলেশন বে) নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করে। তল্লাশির পর প্রাথমিক অবস্থায় বিমােনর সার্বিক পরিচালন ব্যবস্থা ও কারিগরি দিক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আহমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) হঠাৎ করেই বিমানটির ককপিট থেকে কয়েক সেকেন্ডের একটি সংকেত গ্রহণ করে। বিমানটির পাইলট স্বউদ্যোগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ (Squawk 7500) কোডটি সক্রিয় করেছিলেন। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিয়ম অনুযায়ী, আকাশে চলাকালীন কোনো উড়োজাহাজ ছিনতাই বা বেআইনি কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে গোপনে কিংবা জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানোর জন্য পাইলটরা এই বিশেষ ট্রান্সপন্ডার কোড ব্যবহার করে থাকেন।
জয়পুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ফ্লাইটে থাকা সব যাত্রী একদম অক্ষত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির আরেক শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিমানে বোমার সুনির্দিষ্ট হুমকি মেলার পরই মূলত সতর্কতা হিসেবে এই জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।