দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক: ফরিদপুর শহরতলীর কানাইপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চ ও লোহালক্কড় চুরির পর বিক্রি করতে গিয়ে সাব্বির খান (২৫) নামের এক যুবক আটক হয়েছেন। তবে আটকের পর তাকে বিদ্যালয়ে এনে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ব্লেড দিয়ে তার চুল ও গোঁফ কেটে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত সাব্বির খান ওই এলাকার আবুল খানের ছেলে এবং বিদ্যালয়টির সাবেক ছাত্র।
যেভাবে ধরা পড়েন সাব্বির: বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল বন্ধ থাকার সুবাদে বিদ্যালয় থেকে বেশ কয়েকটি বেঞ্চ, চারটি লোহার ফ্রেম, একটি স্টিলের সাইনবোর্ড ও লোহার গ্রিল চুরি হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব মালামাল কানাইপুর বাজারের একটি দোকানে বিক্রি করতে যান সাব্বির। সেখানে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানান স্থানীয়রা। পরে শিক্ষক ও এলাকাবাসী ওই দোকানে গিয়ে চুরি যাওয়া মালামালসহ সাব্বিরকে হাতেনাতে আটক করেন। এরপর মালামালসহ তাকে একটি নছিমনে করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়।
চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ ও পালিয়ে যাওয়া: বিদ্যালয়ের সামনে এনে বসানোর পর বিক্ষুব্ধ জনতা চোর সন্দেহে ব্লেড দিয়ে তার মাথার চুল ও গোঁফ কেটে দেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানানো হয়। প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকরা তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তিনি ওই কক্ষের দরজা ভেঙে পালিয়ে যান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বাসন্তী দত্ত জানান, বুধবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে এসে চুরির বিষয়টি দেখতে পান তারা। পরে খোঁজ নিয়ে তাকে ধরে এনে একটি কক্ষে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এ সময় এলাকার কিছু উত্তেজিত যুবক তার চুল-গোঁফ কেটে দেয় এবং পুলিশ আসার সুযোগে সে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।