দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
পাকিস্তানে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মহাসমাবেশ ও লংমার্চকে কেন্দ্র করে ধরপাকড় এবং কারাবন্দি ইমরান খানের পরিবারের নারী সদস্যদের আটকের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার বড় ছেলে সুলেমান খান।
সম্প্রতি লন্ডনে বসে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২৯ বছর বয়সী সুলেমান বলেন, গভীর রাতে কোনো কারণ ছাড়াই পরিবারের নারী সদস্যদের তুলে নেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। তার অভিযোগ, পাকিস্তানে বর্তমানে ভিন্নমত দমনে সব ধরনের সীমা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
লংমার্চ ও প্রশাসনের প্রস্তুতি: আজ রবিবার ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ লংমার্চের ডাক দিয়েছে পিটিআই। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, এই আন্দোলন ও বিক্ষোভ বেশ কিছুদিন ধরে চলতে পারে। অন্যদিকে, লংমার্চ প্রতিহত করতে রাজধানী ইসলামাবাদের বিভিন্ন প্রধান সড়কে কন্টেইনার বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্ভাব্য সহিংসতা ও হতাহতের আশঙ্কায় রাজধানীর হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে লাহোরে অভিযান চালিয়ে ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজি এবং পিটিআইয়ের শত শত নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।
ইমরান খানের ছেলেদের প্রতিক্রিয়া: বাবার কারাবন্দি অবস্থার তীব্র সমালোচনা করে সুলেমান খান বলেন, তার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা পুরোপুরি অমানবিক ও অবৈধ। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের রাজনীতিকদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইমরান খানের আরেক ছেলে কাশিম খানও পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ২৫ কোটি মানুষের একটি দেশকে কখনোই স্তব্ধ করা যাবে না।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ: পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং মৌলিক অধিকার খর্ব করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি বাবু রাম পান্ত জানিয়েছেন, ইমরান খানের পরিবার ও পিটিআই কর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ তাদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।