দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ফুটবল সংস্থাগুলোর তীব্র বিরোধিতা, বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি ও সাবেক ফুটবলারদের সমালোচনার মুখে ফিফার টুর্নামেন্টগুলোর অংশীদারিত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ফিফা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, এটি পরিস্কার যে এই প্রজেক্ট ‘বিভক্তি তৈরি করেছে’ তাই এটি এখন আর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, ‘ফলে এই প্রস্তাব আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।’ গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ইনফান্তিনো ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিটিকে ৪ কোটি ডলার (প্রায় ৩ কোটি পাউন্ড) দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিনিময়ে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনায় সমর্থন চেয়েছিলেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ও ফুটবলের অন্যান্য ইভেন্ট পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার (দু হাজার কোটি ডলার) মূল্যের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হতো, যার নাম হতো ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই)। এফএফই-র মালিকানার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অংশ বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব ছিল ফিফার। ফিফার দাবি, এই অর্থ বিশ্বের ২১১ সদস্য দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হতো।
গত বৃহস্পতিবার ফিফার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ একযোগে বিবৃতি দেয়। তারা হুমকি দেয় বিশ্বকাপ বয়কটেরও। উয়েফা বলে, ‘এই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার না হলে ফিফার সব আয়োজন বয়কট করবে তারা।
পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে কনক্যাকাফ (উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল) ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এএফসি শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়ে দেয়, উয়েফা ও কনকাক্যাফের পাশে আছে তারা। তবে ইউরোপের মতো সরাসরি বয়কটের হুমকি দেয়নি এশিয়া।
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুর দাবি করেন, এই প্রকল্পের বিষয়ে ফিফার নিজস্ব প্রশাসনকেও ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। এদিকে ফিফার বৈশ্বিক কৌশল ও সুশাসনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো এ ইস্যুতে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের সময় তিনি এই পরিকল্পনাকে ‘ফুটবলের জন্য একটি খারাপ চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ‘ফুটবলের ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখার’ শামিল।
৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে টানা চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচনের চেষ্টা করছেন। এমন সময় এই বিতর্ক তাকে বড় চাপের মুখে ফেলেছে। পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, এখন তিনি ফুটবলের ‘যৌথ স্বার্থের চেতনায়’ সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে নিয়ে আসতে চান।
এই সিদ্ধান্তের পর ফুটবল বিশ্বে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অনেকেই। সাবেক ফুটবলার, কোচ ও ফুটবল বিশ্লেষকরা এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন। তারা বলছিলেন, এটি ফুটবলের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফিফার এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপীয় সুপার লিগের ব্যর্থ প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যা ২০২১ সালে তীব্র বিরোধিতার মুখে বাতিল হয়ে গিয়েছিল।