দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিজ এলাকায় ইয়াবা সেবনের তথ্য মাদকবিরোধী কমিটিকে ফাঁস করার সন্দেহে জাবির আল সাদী (১৯) নামের এক কলেজছাত্রকে ট্যাটা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরকান্দার ফুলসুতি ইউনিয়নের বাউতিপাড়া গ্রামের বড় চকবিলের একটি ভেসালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত কলেজছাত্র জাবির নগরকান্দা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং বাউতিপাড়া গ্রামের হেদায়েত মীরের ছেলে। বর্তমানে তিনি নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত তরুণের নাম মুবিন মোল্লা (২২)। তিনি একই গ্রামের সাখাওয়াত মোল্লার ছেলে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে বাউতিপাড়া গ্রামের ১৪ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ‘বাউতিপাড়া জুয়া ও মাদকবিরোধী কমিটি’ গঠিত হয়। ওই কমিটিতে সুনির্দিষ্ট কোনো পদ-পদবি না থাকলেও গ্রামবাসী সিদ্ধান্ত নেন যে, নিজ নিজ সন্তানকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে এবং কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকলে পুলিশকে তথ্য দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মুবিন মোল্লা তার বন্ধুদের নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন। বিষয়টি মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যদের কান পর্যন্ত পৌঁছালে পরদিন তারা মুবিনের বাবা সাখাওয়াত মোল্লার কাছে বিষয়টি জানিয়ে তাকে শাসন করতে বলেন। পাশাপাশি পরবর্তীতে এমন কাজ করলে পুলিশে খবর দেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বাবার শাসনে ক্ষুব্ধ হয়ে মুবিন সন্দেহ করতে শুরু করেন যে, কলেজছাত্র জাবিরই তার ইয়াবা সেবনের তথ্য কমিটির লোকজনকে জানিয়ে দিয়েছেন।
বিলের ভেতর হামলা ও চিকিৎসকদের বক্তব্য:
এই সন্দেহের জের ধরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জাবির যখন বড়চক বিলে মাছ ধরতে যান, তখন সুযোগ বুঝে সেখানে গিয়ে তার ওপর ট্যাটা দিয়ে হামলা চালান মুবিন। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান তিনি।
ফুলসুতি ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাঞ্চন মাতুব্বর জানান, এলাকায় জাবির অত্যন্ত ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত, আর মুবিনের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির পুরনো অভিযোগ রয়েছে। তথ্য ফাঁসের ক্ষোভেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি শোনেন।
নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুঈন হোসেন জানান, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জাবিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ট্যাটার আটটি শলাকার মধ্যে পাঁচটি তার বুকের ডান পাশে ঢুকে গিয়েছিল। দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।