1. admin@banglarakash.com : admin :
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২: পানি বন্দি প্রায় দুই লাখ মানুষ পাঁচ বছর ধরে মর্গে আটকে আছে ভারতীয় প্রবীরের লাশ- অনিশ্চিত শেষযাত্রা গঙ্গা চুক্তি নবায়নে বাংলাদেশের সাথে দ্রুত আলোচনার সুপারিশ ভারতের সংসদীয় কমিটির চাপের মুখে নতি: ফিফার বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল ঘরে স্ত্রীর মরদেহ রেখে স্বামী উধাও: হত্যা নাকি আত্মহত্যা? দক্ষিণাঞ্চলে বাঁশের চাঁইয়ে পাঙাশের পোনানিধন: সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিতরূপ ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারার পানি এখনও বিপদ সীমার ওপরে, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল শাপলা চত্বর মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে রাজবাড়ীতে ৫টি অস্ত্রসহ ৫ জন অস্ত্রধারী আটক: র‍্যাব-১০ পরিচিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা, সিআইডির অভিযানে একজন গ্রেপ্তার

ঘরে স্ত্রীর মরদেহ রেখে স্বামী উধাও: হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ Time View
নিহত সুমাইয়া শিমু ছবি

দৈনিক বাংলার ডেস্ক:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী মো. জসীম কাজী পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবার হত্যার অভিযোগ তুললেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।

ঘটনার বিবরণ:

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার শৈলমারী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি শৈলমারী গ্রামের মো. মোস্তফা শেখের মেয়ে এবং পাঁচ বোনের মধ্যে চতুর্থ। তার স্বামী জসীম কাজী পেশায় কাঠমিস্ত্রি। ২০১৮ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের বিয়ে হয় এবং এই দম্পতির শামিউল বারী (৬) নামে একটি ছেলে রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ হতো। শুক্রবার দুপুরের দিকে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর সুমাইয়া পাশের পাকুড়িয়া গ্রামে তার মেজ বোনের বাড়িতে ছেলেকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ির দিকে চলে আসেন। পরে তাকে কোথাও পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরিবারের অভিযোগ: হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে-

সুমাইয়ার ছোট বোন মিম খাতুন অভিযোগ করে বলেন, জসীম কাঠমিস্ত্রির কাজ করলেও নিয়মিত কাজ করতেন না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং জসীম বাড়ির কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন বলে তিনি দাবি করেন।

মিম খাতুনের ভাষ্য, বিষয়টি জানতে পেরে তারা জসীমকে সুমাইয়াকে খুঁজতে বলেন। এসময় জসীম তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। মিমের দাবি, জসীম বলেছিলেন, ‘সুমাইয়া বাড়িতে আসুক, পেট্রোল এনে ঘরে আগুন দিয়ে সব জ্বালিয়ে দেব।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এ কথার পর তারা উদ্বিগ্ন হয়ে সুমাইয়াকে আশপাশে খুঁজতে থাকেন। মাগরিবের আগে জসীমের বাড়িতে গিয়ে ঘরে তালা দেওয়া দেখতে পান তারা। পরে সন্ধ্যার দিকে জসীম ফোন করে সুমাইয়ার এক স্বজনকে জানান, সুমাইয়া গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ওই বাড়িতে গিয়ে সুমাইয়ার মরদেহ ঘরের আঁড়ার সঙ্গে শাড়ির ছেঁড়া পাড় দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

তাদের দাবি, মরদেহটির পা মেঝেতে লেগে ছিল। এ অবস্থায় তারা সুমাইয়ার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

সুমাইয়ার আরেক বোন মোছা. সুরাইয়া বলেন, ‘আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। ঘটনার আগে সে ছেলেকে বোনের বাড়িতে রেখে এসেছিল। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

পুলিশের বক্তব্য: প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে:

এ ঘটনার পর থেকে জসীম কাজী ও তার পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এটিকে হত্যা বলে দাবি করছেন। তারা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।

তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগ, প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে গৃহবধূ মৃত্যুর ঘটনা: পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট:

ফরিদপুর জেলায় এর আগেও একাধিকবার গৃহবধূদের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাই মাসে ফরিদপুরের সদরপুরে জয়নফ বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যেটিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করে।

এছাড়া ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার একাধিক মামলায় আদালত ইতোমধ্যে স্বামীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ও আদালতের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT