আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার এমন চমৎকার ও রূপকথার মতো বিদায়ী মঞ্চ হয়তো এর আগে কেউ দেখেনি! বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে ৩-০ গোলে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। আর বিশ্বজয়ী এই দলের সেই তিন গোলের প্রতিটিতেই সরাসরি অবদান রাখলেন খোদ লিওনেল মেসি। নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করালেন আরও দুটি গোল।
বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামজুড়ে লাখো ভক্তের আবেগঘন পরিবেশ, চোখে আনন্দাশ্রু আর সবার গায়ে চিরচেনা সেই ১০ নম্বর জার্সি—সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দলের প্রিয় নেতার এমন জাদুকরি ও স্বপ্নীল পারফরম্যান্সের সুবাদে বেনিনকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে জয় দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলের রঙিন ‘মেসি অধ্যায়ের’ বর্ণাঢ্য সমাপ্তি ঘটাল আলবিসেলেস্তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনা একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়াল ভেঙে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। তবে বিরতির ঠিক পরপরই চেনা ও অপ্রতিরোধ্য রূপে ধরা দেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবল জাদুকর।
খেলার ৪৮তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে মেসির নেওয়া একটি নিখুঁত কর্নার কিক থেকে দারুণ এক ভলিতে দলকে প্রথম এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির ক্যারিয়ারের ৬৮তম অ্যাসিস্ট। এরপর ম্যাচের ৬১তম মিনিটে মাঠে দেখা যায় মেসির আরেকটি দুর্দান্ত কারিশমা। বক্সের বাইরে থেকে তরুণ সেনসেশন নিকো পাজকে উদ্দেশ করে অত্যন্ত নিখুঁত মাপে বল বাড়িয়ে দেন অধিনায়ক। সেই বল পেয়ে মুহূর্তের ব্যবধানে চোখধাঁধানো এক বাঁকানো শটে বেনিনের গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করেন তরুণ পাজ।
জোড়া অ্যাসিস্টের পর এবার গ্যালারিজুড়ে উপচে পড়া ভক্ত-সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজেই স্কোরশিটে নাম লেখান ফুটবলের এই মহাতারকা। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে ডি বক্সের ভেতরে বেনিনের এক ডিফেন্ডার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এরপর ৭০তম মিনিটে স্পট কিক থেকে নিজের ডান পায়ের চেনা ও নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসের জোয়ারে ভাসিয়ে দেন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।
এর আগে ম্যাচের মূল আকর্ষণ হিসেবে ১০ মিনিটের মাথায় মেসির গায়ে থাকা ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সির প্রতি সম্মান জানিয়ে পুরো এক মিনিটের জন্য খেলা থামিয়ে রাখা হয়। রেফারি ও পুরো স্টেডিয়ামের হাজার হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে তাকে অনন্য এক সংবর্ধনা ও অভিবাদন জানান। এ সময় চারপাশজুড়ে আতশবাজির ঝলকানি ও অবিরাম করতালির জবাবে গ্যালারির দিকে হাত নেড়ে ভক্তদের ভালোবাসার প্রতিদান দেন এই মহাতারকা। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের চমৎকার এই বিশাল জয় দিয়েই নীল-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য রাজত্বের সফল সমাপ্তি ঘটল।