‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে নিয়মিত জোরালো অভিযান পরিচালনা করে আসছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা এলাকায় পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে এসআরবি-১০ এর সদস্যরা। এসব অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, তাজা কার্তুজ, ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকসহ কুখ্যাত এক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত সোমবার (৬ অক্টোবর, ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৫টা ৩৫ মিনিটে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাধীন উত্তর কালীবাজার এলাকার জেনারেল হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয়। স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের এই আস্তানায় এসআরবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে ওই ভবন থেকে ১টি বিদেশি রিভলবার এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর, একই দিন সকাল পৌনে নয়টার দিকে কোতোয়ালি থানার নীলটুলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে আরেকটি পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালায় এসআরবি। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে সাফায়েত আহমেদ (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃত সাফায়তের বাড়ি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার চরকমলাপুর এলাকায়, তার বাবার নাম মৃত বশির আহমেদ।
গ্রেফতারকৃত সাফায়েতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়। এ সময় তার ঘর থেকে ২টি ককটেল, ১টি খেলনা রিভলবার, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি রামদা, ১টি ছুরি, ১টি সুইচ গিয়ার, ১টি ওয়াকিটকি, ১টি ট্রেজার গান, ২৫ রাউন্ড গুলির খোসা, ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, সেনাবাহিনীর ২টি ক্যাপ, এপিবিএন-এর ১টি ক্যাপ এবং সেনাবাহিনীর ১টি কোমর বন্ধনী উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যক্তি নিজেকে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানা এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত সাফায়েত আহমেদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ইতিপূর্বেই একটি মাদক ও একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলা রয়েছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ, ককটেল এবং অন্যান্য অবৈধ সরঞ্জামসহ গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
অপরাধের বিরুদ্ধে এসআরবি-১০ সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে আসছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের কঠোরহস্তে দমন করতে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি, অবৈধ মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা এসআরবিকে জানানোর জন্য সর্বসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।