যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত মাসে দেশটিতে ডিজেলের দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি প্রায় ৬.৫০ ডলারের সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়েছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ ভোক্তা ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারাত্মক আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে।
আসন্ন ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের এই চাপ কমাতে এবার বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশ প্রস্তুত করা হয়েছে, যার ঘোষণা খুব দ্রুতই আসতে পারে। এই আদেশে করমুক্ত ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু কার্যকর ব্যবস্থার কথা উল্লেখ থাকতে পারে।
প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার একটি প্রধান দিক হলো ‘রেড-ডাইড ডিজেল’-এর সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করা। সাধারণত কৃষি খাত এবং নির্দিষ্ট কিছু অফ-রোড বা মাঠপর্যায়ের যানবাহনে এই বিশেষ ডিজেল ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি, পরিবহন বিভাগকে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে সড়কে ব্যবহৃত ডিজেলের ওপর কর মওকুফের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘপথের ট্রাক পরিবহনসহ জ্বালানি-নির্ভর বিভিন্ন খাতের অতিরিক্ত ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পরিবহনের মূল চালিকাশক্তি হলো এই ডিজেল। ফলে এর দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য তা রাজনৈতিক দিক থেকেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবহন খরচ বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও। মূলত ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের তেল শোধনাগারে বিভিন্ন হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারেও ডিজেলের ঘাটতি মেটাতে তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া কূটনৈতিক চাপের মুখে গত সপ্তাহে জি৭ভুক্ত দেশগুলো বাজারজাতকরণের জন্য ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়তে রাজি হয়েছে। তবে এই সরবরাহের কতটুকু একদম নতুন বা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। এর আগে মার্কিন বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার কঠোর চিন্তাভাবনাও করেছিলেন ট্রাম্প।