দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক ডেস্ক/ধর্মীয় প্রতিবেদক: হাসি-কান্নায় গড়া মানুষের এই ক্ষণস্থায়ী জীবন। পার্থিব জীবনে মানুষ যদি পরম করুণাময় মহান আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন দেয় এবং মহান আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দেখানো জীবনবিধান মেনে পথ চলে, তবে তার বিদায় হবে পরম শান্তিময় ও হাসিমুখে—তখন গোটা জগদ্বাসী তাঁর জন্য অশ্রুপাত করবে। মানবজীবনে মুমিন বান্দা কতটুকু হাসবে এবং কান্নার মাধ্যমে পরকালের প্রস্তুতি কীভাবে নেবে, আল-কোরআনে দেওয়া হয়েছে তারই স্পষ্ট পথনির্দেশনা।
হাসি-কান্না আল্লাহরই দান
মানবজীবনে হাসি ও কান্নার অনুভূতি মহান আল্লাহরই নির্ধারণ করা এক বিধান। জীবনের সুখময় মুহূর্তের হাসি আর আল্লাহভীতির অশ্রু—দুটোই চাইতে হবে তাঁরই কাছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, “আর নিশ্চয়ই তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।” (সুরা: নাজম, আয়াত: ৪৩)
মহান আল্লাহর পবিত্র হাসি
হাসি মহান আল্লাহর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য, তবে তাঁর এই হাসি সৃষ্টির হাসির মতো নয়; বরং তাঁর পবিত্র সত্তার মতোই চিরন্তন ও অতুলনীয়। জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি সম্পর্কে হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, পরম করুণাময় আল্লাহ একপর্যায়ে হেসে দেবেন এবং তাঁর বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশের চিরন্তন অনুমতি দান করবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৭৩)
পার্থিব জীবনে মুমিনের হাসি ও কান্নার ভারসাম্য
হাসি ও কান্না মানুষের স্বভাবজাত আবেগের প্রকাশ। তবে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর জীবনে মুমিন বান্দা অতিরিক্ত হাসির চেয়ে অন্তরের গভীর কান্নাকে প্রাধান্য দেয়। অতিরিক্ত হাসি ও খেল-তামাশা অন্তরে উদাসীনতা সৃষ্টি করে, অন্যদিকে আল্লাহভীতির অশ্রু পরকালীন মুক্তির পথ সুগম করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, “তারা যেন কম হাসে এবং বেশি কাঁদে।” (সুরা: তাওবা, আয়াত: ৮২)
পরকালে মুমিনের চিরন্তন হাসি
দুনিয়ার জীবনের আত্মত্যাগ, সহনশীলতা ও আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে পরকালে মুমিনের প্রাপ্তি হবে অন্তহীন আনন্দ। হাশরের বিচার দিবসেই মুমিন বান্দা উঠবে হাসিমুখে। পবিত্র কোরআনে সেই প্রফুল্লতার বর্ণনা দিয়ে ইরশাদ হয়েছে, “অনেক মুখমণ্ডল সেদিন উজ্জ্বল, সহাস্য ও প্রফুল্ল হবে।” (সুরা: আবাসা, আয়াত: ৩৮-৩৯)
কোরআনের আলোকে হাসির বৈচিত্র্য
পবিত্র কোরআনের ১০টি আয়াতে ‘জিহিক’ বা হাসির প্রসঙ্গ এসেছে, যেখানে মূল ৫ ধরনের হাসির বিবরণ পাওয়া যায়। তার মধ্যে অন্যতম দুটি হলো: