দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
জাতীয় বাজেটে সিগারেটের নামমাত্র দাম বাড়ানো হলেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করলে প্রকৃত অর্থে অধিকাংশ মূল্যস্তরেই সিগারেটের দাম কমেছে। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিপিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত তামাক করনীতি বিষয়ক এক গণমাধ্যম কর্মশালায় এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় সিগারেটের ওপর কর আরোপ, বাজারের বর্তমান প্রবণতা, সরকারি রাজস্ব এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা আলোচনা করেন।
মূল্যকাঠামো ও প্রকৃত দামের চিত্র:
কর্মশালায় পিপিআরসির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী মোহাম্মদ ইহতেশাম হাসান জানান, সর্বশেষ বাজেটেও সিগারেটে চার স্তরের পুরোনো মূল্যকাঠামোই বহাল রয়েছে। যদিও নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা দাম প্রথমে বাড়িয়ে ৬২ এবং পরবর্তীতে ৬৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম যথাক্রমে ৯২, ১৬০ এবং ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে পিপিআরসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতির বাস্তবতার সঙ্গে হিসাব করলে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় অধিকাংশ স্তরের সিগারেটের প্রকৃত দাম আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খুচরা বাজারে নামমাত্র দাম বাড়লেও তা সরকারের রাজস্ব আয়ে একই অনুপাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছে।
সিগারেটের বাজার হিস্যায় বড় পরিবর্তন:
গবেষণায় সিগারেটের বাজার বিন্যাস ও ভোক্তা প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেটের বাজার হিস্যা ছিল ৭৭ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ৪৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিপরীতে, একই সময়ে মধ্যম স্তরের সিগারেটের বাজার হিস্যা মাত্র ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিগারেটের দাম পুনর্নির্ধারণের পর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন শ্রেণিবিন্যাস এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও পছন্দ পরিবর্তনের বিষয়টিও এতে প্রভাব রেখেছে।
রাজস্ব পরিস্থিতি:
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের জুলাই-আগস্ট সময়ে সিগারেট খাত থেকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ সরকারি রাজস্ব আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ হাজার কোটি টাকা কমেছে। তবে পিপিআরসি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অঙ্কটিকে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত রাজস্ব ঘাটতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নতুন ত্রৈমাসিক ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর কারণে রাজস্ব হিসাবভুক্তকরণের প্রক্রিয়ায় এর সাময়িক প্রভাব পড়ে থাকতে পারে।