রাঙ্গামাটির বিখ্যাত পর্যটন এলাকা সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট)-এর সশস্ত্র সদস্যরা সাধারণ জনগণকে জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ এবং ভ্রমণরত পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করেছে। উক্ত ঘটনার জেরে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে ঘুরতে আসা প্রায় ৩ হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবরুদ্ধ সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
আইএসপিআর জানায়, সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচলের সময় অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে গাড়ি আটকে দেয়। এ সময় পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল অবরোধকারীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনা শুরু করে।
আলোচনা চলাকালেই সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা হঠাৎ করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পর্যটকদের গাড়ি চলাচলের পথ পুনরায় সুগম করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র দলটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় সেনাবাহিনীর টহল দল নিজেদের আত্মরক্ষা এবং নিরীহ পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। যৌথ বাহিনীর এই সময়োপযোগী ও কার্যকর ভূমিকার কারণে অঘটন এড়িয়ে ৩ হাজার পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং ঘটনাটিতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আইএসপিআর আরও জানায়, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ইউপিডিএফ কর্তৃক সংঘটিত এই অবরোধ ও সহিংসতা মূলত একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। সাধারণ ও নিরীহ স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অবরোধে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার এই চক্রান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান সাঁড়াশি অভিযানের কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়া ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়ে এই ধরনের নাশকতা চালানোর চেষ্টা করে।
আইএসপিআরের মতে, এ জাতীয় সহিংস কর্মকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পাশাপাশি অঞ্চলের বিকাশমান পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় অধিবাসীদের জীবন-জীবিকার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে বেসামরিক প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সুদৃঢ় সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর এই বলিষ্ঠ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে বলে পুনরুল্লেখ করা হয়।
(সূত্র: ইত্তেফাক/এপি)