চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগের সড়কগুলোতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অন্তত ২৮৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়েছেন আরও ৬৩০ জন। এর মধ্যে একক মাস হিসেবে মে মাসে সর্বোচ্চ ৫১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মসূচীতে এসব উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছে সামাজিক সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সিলেট বিভাগীয় কমিটির সংকলিত মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৯ মাসের মাসভিত্তিক প্রাণহানির চিত্রে দেখা যায়— জানুয়ারিতে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩২টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন, মার্চে ২৯টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন, এপ্রিলে ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন, মে মাসে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৫১ জন, জুনে ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন, জুলাইয়ে ২৮টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন, আগস্টে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ২৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনের বিশদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসে সর্বাধিক ৫১ জন এবং আগস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। কেবল এই দুই মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৯৮ জন, যা গত ৯ মাসের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশ। বছরের নির্দিষ্ট কিছু মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা এভাবে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ উদ্ঘাটনে দুর্ঘটনার ধরন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য গভীরভাবে বিশ্লেষণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি সিলেট বিভাগের সড়ক দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণগুলো চিহ্নিত করে জানায়— যানবাহনের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং, চালকের চরম অসতর্কতা, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সড়কের নিরাপত্তা কাঠামোর ঘাটতি প্রধানতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের যথাযথ হেলমেট পরিধান না করা এবং পথচারীদের অসচেতনভাবে রাস্তা পারাপার হওয়ার বিষয়টিকেও দায়ী করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি জরুরি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা বর্তমানে এক বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানবাহনের চাপ ও বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট গতিসীমা কার্যকর করা, অতি-ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ চিহ্নিত করা এবং জরুরি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।