নেপালে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যার দীর্ঘ ৪০ দিন পর জরুরি নয় এমন সব অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। এখন পুরোপুরি জোর দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের ওপর। ভারতীয় বার্তা সংস্থা টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট আঘাত হানা এই প্রলয়ংকারী বন্যায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ২৮৫ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ১৮৯ জন ভারতীয় এবং বিদেশি পাসপোর্টধারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও বেশ কয়েকজন নাগরিক রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের বৈঠকে উদ্ধার অভিযান স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকারী দলগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের জন্য ৫শ ৪টি কর্মসূচির খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৯০০ কোটি নেপালি রুপি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রস্তাবিত এসব প্রকল্পের বাইরে যেসব প্রকল্পের ব্যয় এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোর জন্য অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনডিআরআরএমএকে।
এদিকে, নেপালের পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৩৬টি দেশের ৬০৬ জন বিদেশি পর্যটক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮৯ জন ভারতীয়। এছাড়া নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ৬৫ জন মার্কিন, ৫৫ জন মালয়েশীয়, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৩৭ জন চীনা, ৩৩ জন করে অস্ট্রেলিয়ান ও লাটভিয়ান, ৩২ জন ব্রিটিশ এবং ৩০ জন কানাডীয় নাগরিক। পাশাপাশি নিখোঁজ নেপালি পর্যটকের সংখ্যা ১৮৮ জন।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে তামিলনাড়ুর ৮৫, পশ্চিমবঙ্গের ৩৭, গুজরাটের ৩০, তেলেঙ্গানার ২৫, উত্তর প্রদেশের ২২, কর্ণাটক ও অন্ধ্র প্রদেশের ১৩ জন করে এবং বিহারের ১২ জন রয়েছেন। এছাড়া মহারাষ্ট্রের ১০ জনের বেশি এবং ওডিশার চারজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হলেও নেপাল সরকার এখন ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সর্বস্ব হারানো মানুষের পুনর্বাসনে তাদের পূর্ণ মনোযোগ ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।