দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
সকালে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার পর তা বন্ধ বা ‘স্নুজ’ করে আরও খানিকটা সময় বিছানায় গড়িয়ে নেওয়া আমাদের অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর এই অতিরিক্ত কয়েক মিনিটের ঘুমকে যেন সারাদিনের সবচেয়ে আরামদায়ক ঘুম মনে হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, এই আরামের বিষয়টি শুধুই কুঁড়েমি নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে আমাদের শরীর, মস্তিষ্ক ও মনস্তাত্ত্বিক কিছু বিশেষ জৈবিক প্রতিক্রিয়া।
যে কারণে সকালে অ্যালার্মের পরের ঘুম এত মিষ্টি লাগে:
- হঠাৎ ঝটকা ও স্নায়বিক স্থিরতার পার্থক্য: অ্যালার্মের হঠাৎ কর্কশ শব্দে ঘুম ভাঙলে শরীরে একধরনের স্নায়বিক অস্থিরতা বা চাপ তৈরি হয়। ঠিক পরমুহূর্তে অ্যালার্ম বন্ধ করে যখন আবার চাদরের উষ্ণতায় ফিরে যাওয়া হয়, তখন মস্তিষ্ক সেই অস্থিরতার বিপরীতে এক তীব্র স্বস্তি ও আরাম অনুভব করে।
- ডোপামিনের ক্ষরণ ও মানসিক মুক্তি: অ্যালার্ম বন্ধ করা মানেই হলো তাৎক্ষণিকভাবে দিনের শুরু বা কাজের তাড়া থেকে সামান্য সময়ের জন্য মুক্তি পাওয়া। এই হঠাৎ স্বস্তির অনুভূতি মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক আনন্দদায়ক হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়, যা ক্ষণিকের জন্য মানসিক তৃপ্তি জোগায়।
- ঘুমের ঘাটতি বা ‘স্লিপ ডেফিসিট’: রাতে প্রয়োজনীয় বা পূর্ণাঙ্গ ঘুম (স্লিপ সাইকেল) না হলে শরীর তার ঘাটতি পূরণের জন্য আকুল হয়ে ওঠে। ফলে সকালের অতিরিক্ত ১০ বা ১৫ মিনিটের ঘুম শরীরের কাছে অত্যন্ত লোভনীয় মনে হয়।
- হালকা ঘুম ও স্বপ্নের রেশ: সকালের দিকে মানুষের ঘুম সাধারণত হালকা বা ‘রেম’ (REM) পর্যায়ে থাকে। এই সময় মানুষ চমৎকার বা অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখতে থাকে। হঠাৎ অ্যালার্মে স্বপ্ন ভেঙে গেলে তা পূর্ণ করার তাগিদ থেকেও মানুষ আবারও চোখ বুজে ফেলে।
বারবার স্নুজ করার স্বাস্থ্যঝুঁকি: মাঝে মাঝে অ্যালার্ম বন্ধ করে কয়েক মিনিট অতিরিক্ত ঘুমানো স্বাভাবিক হলেও প্রতিদিন বারবার ‘স্নুজ’ করার অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার ঘুম ভাঙা ও নতুন করে ঘুমাতে যাওয়ার ফলে মস্তিষ্ক একটি নতুন ‘স্লিপ সাইকেল’-এ প্রবেশ করতে চায়, যা শেষ হতে না পেরে মাঝপথে ভেঙে যায়। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর সতেজ লাগার বদলে সারাদিন আরও বেশি ক্লান্তি, অলসতা ও মাথা ভার ভাব থেকে যায়।