দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ফরিদপুরে ব্যবসায়িক পাওনা ও লভ্যাংশের কোটি কোটি টাকা পরিশোধ না করে উল্টো ব্যবসায়িক পার্টনার ও বন্ধুকে ডাকাতি ও লুটপাটের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে শামীম আহমেদ মুকুট নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সৌরভ মোল্লার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে সৌরভের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর বোন সীমা আক্তার। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে সীমা আক্তার জানান, ফরিদপুর শহরের কানাইপুর এলাকার মৃত হাসান বিশ্বাসের ছেলে শামীম আহমেদ মুকুটের সাথে তাঁর ভাই সৌরভ মোল্লার দীর্ঘদিনের নিবিড় বন্ধুত্ব ছিল। সেই সুসম্পর্কের ভিত্তিতে বিগত পাঁচ বছর ধরে তাঁরা যৌথ মালিকানায় একটি ইটভাটা পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে ব্যবসার বয়স বাড়লেও লভ্যাংশের কোনো হিসাব কিংবা আসল টাকা সৌরভকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছিল না। সীমা আক্তারের দাবি, ইটভাটার ব্যবসা বাবদ সৌরভের পাওনা মূল ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং গত চার বছরের লভ্যাংশের হিসাব চাইতে গেলে শামীম আহমেদ নানা বাহানায় সময় ক্ষয় করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও পাওনা টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে সৌরভকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন শামীম আহমেদ। তবে সৌরভ সেখানে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন লোক তাঁর ও তাঁর সহযোগীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সেই সময় প্রাণ বাঁচাতে সৌরভ ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে যান। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে মোড় দিতে শামীম আহমেদ নিজের বাসভবনের আসবাবপত্র নিজে তছনছ করে সৌরভসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা নগদ ও ৮০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের একটি সাজানো মামলা করেন।
সৌরভের পরিবার দাবি করেছে, একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর নিজ বাসভবনে সত্যিই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁরা এই ঘটনার সঠিক রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ ও অনুসন্ধানের জোর দাবি জানান। একই সাথে কাল্পনিক ও মিথ্যা মামলাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে প্রকৃত সত্য প্রকাশের জন্য সংবাদমাধ্যমের সহায়তা কামনা করে ভুক্তভোগীর পরিবার।