বাংলার আকাশ ডেস্ক :
এস ইসলাম , ফরিদপুর।
ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি মূল্যবান হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্লুইড দিয়ে মুছে ও ঘষামাজা করে জমি আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সাব-রেজিস্ট্রারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরে এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে ফরিদপুরে সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলীকে কারাগারে পাঠান।
মামলার এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি ও অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায় লাভের বশবর্তী হয়ে ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের একটি হেবা ঘোষণাপত্র দলিল (দলিল নং-৪০৬৭, তারিখ-১৫/০৫/২০১৭ খ্রি.) এর মূল কপির ৬ নং পাতায় জালিয়াতি করেন। দলিলে থাকা স্ট্যাম্প নং-০৩১৭১৯৭ এর শেষ লাইনের পরের অংশে, যেখানে “যাহা দিয়ারা ৩৯১৯ ও ৩৯২০ নং দাগ হইতে দখলভোগ করিবেন” কথাটি লেখা ছিল, তা আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে ঘষামাজা করে ও ফ্লুইড দিয়ে পুরোপুরি মুছে ফেলেন।
নথিতে দেখা যায়, মূল দলিলের উক্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকু মুছে ফেলার পর বাকি অংশটি বালামভুক্ত করা হয় এবং বালাম বহির সংশ্লিষ্ট অংশে দাপ্তরিক স্বাক্ষর করা হয়। এর মাধ্যমে দলিলের প্রকৃত গ্রহীতা ও মূল অভিযোগকারী মো. খলিলুর রহমানকে মোট ০৯ (নয়) শতাংশ জমির দখলভোগ হতে সুকৌশলে বঞ্চিত করার অপরাধমূলক চেষ্টা করা হয়েছে।
মামলার বিবরণী:
মামলা নম্বর: দুদক সজেকা, ফরিদপুর এর মামলা নং-০২ (দুদক জি.আর-৬/২৬)
এজাহার দায়েরের তারিখ ও সময়: ০১/০২/২০২৬ খ্রি., সকাল ১০.০০ ঘটিকা
মামলার বাদী (অভিযোগকারী): সরদার আবুল বাসার, সহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুর।
ঘটনার সময়কাল: ১৫/০৫/২০১৭ খ্রি. হতে ২৮/০৫/২০১৮ খ্রি. তারিখের মধ্যে যেকোনো সময়।
ঘটনাস্থল: ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ফরিদপুর।
মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন:
১) মো. ইউসুফ আলী মিয়া (৬০): প্রাক্তন সদর সাব-রেজিস্ট্রার, ফরিদপুর সদর (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত)। পিতা- আঃ কাদের মিয়া, স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম ও ডাকঘর- নরোত্তমপুর, উপজেলা- বানারীপাড়া, জেলা- বরিশাল। (দলিল বালামভুক্ত করার দিন বালাম রেজিস্ট্টারে স্বাক্ষরকারী)।
২) মো. মেহেদী হাসান (৩৭): তুলনাকারক, সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ফরিদপুর। পিতা- মো. আইয়ুব আলী মিয়া, গ্রাম+পো:- পূর্ব বাছড়া, থানা- কোতোয়ালী, জেলা- ফরিদপুর।
৩) মনোয়ার হোসেন (৪০): নকলকারক, সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ফরিদপুর। পিতা- মো. আবুল কাশেম, গ্রাম- পূর্ব আলিয়াবাদ, পো:- কৃষ্ণনগর, থানা- কোতোয়ালী, জেলা- ফরিদপুর।
৪) মো. জাহিদ শেখ (৪১): পাঠক, সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ফরিদপুর। পিতা- মৃত সোহরাব শেখ, গ্রাম- পূর্ব বাঘানগর, পো:- অম্বিকাপুর, থানা- কোতোয়ালী, জেলা- ফরিদপুর।
৫) মো. জিন্নাহ শেখ (৫৩): (দলিলের দাতা), পিতা- মৃত ইসমাইল শেখ, সাং- ১৪৬ নং উত্তর চর মাধবদিয়া (মমিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী), ডাকঘর- মমিন খার হাট, ফরিদপুর সদর, জেলা- ফরিদপুর।
আইনি ধারা ও বর্তমান অবস্থা:
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং তৎসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তে অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, ফরিদপুর এই এজাহারটি আমলে নিয়েছেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলার তদন্তকালে এই অপরাধের সাথে অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সংশ্লিষ্টতা ও যোগসাজশ পাওয়া গেলে, তাদেরকেও আইন অনুযায়ী এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।