বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পরিচালিত এক নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সমান রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, তথ্যভিত্তিক অংশগ্রহণ এবং নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপসা।
শনিবার (৪ জুলাই) খুলনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটি তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ২৫টি সংসদীয় আসনের ৫০৯টি ভোটকেন্দ্রে ২০০ জন প্রশিক্ষিত নাগরিক পর্যবেক্ষকের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি ছিল। অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রথমবারের মতো গণভোটের বিষয়টি জানতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মাত্র ৫৭টি আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে নির্বাচিত হন চারজন, যারা একই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। এছাড়া ৭৯ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ জন।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটার হয়রানি, চাপ প্রয়োগ বা ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতে বাধার মতো ঘটনা ঘটেছে। কিছু এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিশোধের আশঙ্কায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে অনীহাও লক্ষ্য করা গেছে।
রূপসার নির্বাহী পরিচালক হিরন্ময় মণ্ডল বলেন, প্রশাসনিকভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হলেও প্রকৃত অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ব্যবধান দূর করতে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রতিবেদনের শেষ অংশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও জোরদার করতে আটটি সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে।