বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ফরিদপুর নাগরিক কমিটির উদ্যোগে নাগরিক আলোচনা ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে শহরের থানা মোড়ে ব্যাংক এশিয়ার সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ফরিদপুর নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস মোল্লা, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মুদাররেস আলী ঈসা, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি, জমিয়তুল উলামা বাংলাদেশ ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মুফতি কামরুজ্জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর মিয়া, ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন বাবর, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. সালাম লাল, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন মিধা, অশোক সিংহ রায়, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক টুলু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ এবং নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শওকত আলী মোল্লাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তারা ওই সময়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার অবদানের কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বক্তারা গত ১৭ বছরে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, ওই সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং অনেককে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়েছে।
আলোচনায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বক্তারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ফরিদপুরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা, সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা, পেঁয়াজ সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
এর আগে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা একাধিক মিছিল আলোচনা সভাস্থলে এসে মিলিত হয়।