দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বঙ্গোপসাগরের গহিরা ও রায়পুর উপকূলের ইলিশ এখন আর কেবল স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে এখানকার রূপালী ইলিশ। মাছের পাশাপাশি অনলাইনে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে সুস্বাদু ইলিশের ডিমও। উপকূলের তরুণ উদ্যোক্তারা অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ার ও বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে ক্রেতাদের দোরগোড়ায় এসব পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।
স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, দেশজুড়ে গহিরার ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের ডিমের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশ চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে গহিরা এলাকায় পাইকারিতে প্রতি কেজি ইলিশের ডিম ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং খুচরায় ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা জি এম মঈন উদ্দীন প্রায় দুই বছর ধরে অনলাইনে ইলিশ ব্যবসা করছেন। চলতি মৌসুমে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এক টনের বেশি ইলিশ এবং প্রায় ২০০ কেজি ইলিশের ডিম বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে আমরা ক্রেতাদের কাছে ইলিশ পৌঁছে দিচ্ছি। ইলিশের পাশাপাশি এর ডিমের চাহিদাও এখন দারুণ।” তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নত অবস্থা এবং মানসম্মত কুরিয়ার সার্ভিসের অভাবের কারণে মাছ পাঠাতে বাড়তি সময় ও খরচ পোহাতে হয় বলে জানান এই উদ্যোক্তা।
অনলাইনে মাছ কিনে সন্তোষ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার চাকরিজীবী ইশতিয়াক বলেন, “ব্যস্ততার কারণে সরাসরি উপকূলে গিয়ে মাছ কেনা সম্ভব হয় না। তাই অনলাইন পেজের মাধ্যমে ৫ কেজি ইলিশ ও ১ কেজি ডিম অর্ডার করেছিলাম। রাতে অর্ডার করার পরদিন দুপুরের মধ্যেই পণ্য হাতে পেয়েছি।”
এদিকে আনোয়ারার গহিরা চিবাতলী ঘাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছোট আকারের চারটি ইলিশের এক কেজির দাম প্রায় ৮০০ টাকা, মাঝারি আকারের দুটি ইলিশ ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেড় কেজি ওজনের বড় ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
ঘাটের গদির কারবারি ইমতিয়াজ শাকিল জানান, জেলেদের কাছ থেকে বেশি দামে মাছ কিনতে হওয়ায় এর প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই বাজারে পড়ছে। বোট মালিক দিদারুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের চড়া দাম এবং উত্তাল আবহাওয়ার কারণে সাগরে মাছ ধরা আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা মাছের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
আনোয়ারা উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার জেলে মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত আছেন। চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মেট্রিক টন।
সার্বিক বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে উপকূলের জেলে ও উদ্যোক্তাদের জন্য ইলিশ বিক্রির নতুন বাজার তৈরি হয়েছে। তবে মাছ পরিবহনে দ্রুত ও মানসম্মত কোল্ডচেইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় আহরণ ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা প্রভাব বাজারদামে পড়ছে।