সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নিহতদের মধ্যে একজন হলেন প্রখ্যাত ধর্মীয় আলেমে দ্বীন মাওলানা মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী।
নিহত মাওলানা মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের সন্তান। তিনি রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘জামিয়া রাবিউল উলুম মাদরাসা’র শিক্ষাসচিব হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
হামলার শিকার হয়ে চিরতরে চলে যাওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে বিমানে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবনের সর্বশেষ পোস্টটি করেছিলেন মাওলানা নাসরুল্লাহ। সেই বার্তায় ছিল পবিত্র বাইতুল্লাহ বা কাবার সান্নিধ্য পাওয়ার আকুল ব্যাকুলতা ও গভীর আবেগঘন আকুতি।
ফ্লাইটে আরোহণকালে নিজের বাঁধভাঙা অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘স্বপ্নের দিকে! একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছি। আকাশের অসীম নীলিমায় উড়ে চলেছি স্বপ্নের গন্তব্যের পানে। জীবনের সেরা সফরের এই মুহূর্তগুলো সত্যিই অন্যরকম, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়!’
পবিত্র ওমরাহ পালনের তীব্র বাসনা ব্যক্ত করে তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘রিয়াদ এয়ারলাইনসে আকাশপথের এই যাত্রা এক অসাধারণ অনুভূতি। জানালার ওপাশে বিস্তীর্ণ আকাশ, হৃদয়জুড়ে আনন্দ আর অন্তরে বাইতুল্লাহ যিয়ারতের গভীর আকাঙ্ক্ষা। প্রতিটি মুহূর্ত যেন স্মৃতির পাতায় চিরদিনের জন্য লিখে রাখার মতো।’
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি প্রহর গণনার কথা জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! আর মাত্র এক ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই পৌঁছে যাব সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। এরপর শুরু হবে হৃদয়ের আরও কাছের সেই স্বপ্নময় গন্তব্যের পথে এগিয়ে চলা।’
পোস্টের একদম শেষ অংশে পবিত্র ওমরাহ সফরের কবুলিয়াতের জন্য একটি দোয়ার বাক্য উল্লেখ করেন এই আলেম। তিনি লেখেন—
اللَّهُمَّ يَسِّرْ لَنَا سَفَرَنَا وَتَقَبَّلْ عُمْرَتَنَا
(অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সফর সহজ করুন এবং আমাদের ওমরাহ কবুল করে নিন।’)
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একই হামলায় প্রাণ হারানো অপর বাংলাদেশি হলেন বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহেদ আহম্মেদ।