বাংলার আকাশ ডেস্ক :
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, অস্ত্রধারী হামলা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে ঘটছে অপরাধ, যা এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সম্প্রতি শেখেরটেক এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হন আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর কয়েকদিন পর সাত মসজিদ হাউজিং এলাকায় নিজ বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা অস্ত্র নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বসিলা অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি পুলিশি তৎপরতা, নিয়মিত টহল এবং কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা পেতে অনেক সময় দেরি হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় জনসংখ্যার তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো জরুরি বলেও মত দেন তারা।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের জনবল সীমিত হওয়ায় সব এলাকায় সমানভাবে নজরদারি রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে টহল বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।
ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি ও জনসংখ্যা বিবেচনায় বসিলা এলাকায় নতুন থানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ, পুলিশের সক্রিয়তা এবং স্থানীয়দের সহযোগিতার মাধ্যমে মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।