বাংলার আকাশ ডেস্ক :
পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ৪ নম্বর আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বহু বসতবাড়ি, বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকে বাধ্য হচ্ছেন অন্যত্র আশ্রয় নিতে। বেড়িবাঁধ না থাকায় নদীতীরবর্তী কয়েকশ পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়রা জানান, পায়রা নদীর আগ্রাসী ভাঙনে বাহেরচর ও আঙ্গারিয়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিবছর পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার। একসময় যে জায়গায় ছিল সাজানো সংসার, আজ সেখানে শুধু নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি।
৮০ বছর বয়সী জলিল উদ্দিন ফকির জানান, একসময় তার বাড়িতে ছিল পুকুরভরা মাছ, গোয়ালে গরু এবং ফসলে ভরা জমি। কিন্তু নদীর ভাঙনে সব হারিয়ে এখন শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় ঘর ভেঙে অন্যত্র চলে যেতে হচ্ছে তাকে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে নদী ভাঙনের কারণে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ও কবরস্থানও হারিয়ে গেছে। অনেক পরিবার এখন আশ্রয়ের সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে ঘুরছে। তাদের দাবি, তারা কোনো সাময়িক সহায়তা নয়, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ চান।
স্থানীয় বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীর ভাঙন দেখতে দেখতে তাদের সাজানো সংসার ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন তারা স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আরেক বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এলাকার আরও অনেক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব জানান, ভাঙন ঠেকাতে আপাতত অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী জেলায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২২ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রায় ৬ কিলোমিটার বাঁধ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যাতে আর কোনো পরিবারকে বসতভিটা হারিয়ে পথে নামতে না হয়।