মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও ইলিশের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও নৌ পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী চলা এসব সাঁড়াশি অভিযানে অবৈধভাবে মাছ শিকারের দায়ে মোট ১৭ জন জেলেকে কারাদণ্ড ও গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ২৭ কেজি ২০০ গ্রাম ইলিশ এবং তিনটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
অভিযানের প্রথমভাগে শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকূল, বাঘড়া ও নূর বয়াতির চর এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ ও জাটকা শিকারের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৮ জন জেলেকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ সময় প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৫ কেজি মা ইলিশ ও জাটকা জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং উদ্ধারকৃত মাছ স্থানীয় সরকারি শিশু পরিবারে এতিম শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
অন্যদিকে, পদ্মা সেতু উত্তর থানাধীন কান্দাপাড়া এলাকায় মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন উত্তাল পদ্মা নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও ৯ জন জেলেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ২৭ কেজি ২০০ গ্রাম ইলিশ মাছ, ২ হাজার ৩০০ মিটার কারেন্ট জাল এবং মাছ ধরার ৩টি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত আরও একটি দীর্ঘ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসেম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের যৌথ নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মিটার মালিকবিহীন অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ টাকা। পরে নদীর পাড়ে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে জালগুলো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করা হয়। উক্ত অভিযানে মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আব্দুল মাবুদ ও উপপরিদর্শক শওকত ওসমানসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমের সুরক্ষা দেওয়া এবং সামগ্রিকভাবে জাতীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই নদীতে সব ধরনের অবৈধ মাছ শিকার রোধে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, পরিবহন ও বিক্রির বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
(সূত্র: বিডি প্রতিদিন/এমএল)