1. admin@banglarakash.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিইআরসি নির্ধারিত দামের বাজারে অস্থিরতা: দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি এলপিজি ব্যবসায়ীদের দুর্গাপূজায় সীমান্ত এলাকার ২,৭২৭ মণ্ডপে মোতায়েন হচ্ছে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়ায় ফায়ার সার্ভিসের ২ কর্মী অসুস্থ, ধ্বংসস্তূপে পরিণত ৬ষ্ঠ তলা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২,১৬৭ জন হুথিদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোণঠাসা রিয়াদ: ইয়েমেনে স্থলযুদ্ধের ঝুঁকিতে সৌদি আরব কানাডার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও জলবায়ু তহবিলের ওপর জোর দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু: ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের ডেটাবেইস গঠনের লক্ষ্য রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি হামলায় নিহত ও আহত ২৬ বাংলাদেশির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশ ইলিশ নিষেধাজ্ঞার মৌসুমে পাতে চাপিলা: ইলিশের বিকল্প কি হতে পারবে এই ছোট মাছ? ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাবি গবেষকদের নতুন উদ্ভাবন: এআই প্রযুক্তির ‘মাস্ট-ক্লাউডনেট’ দিয়ে এডিস মশা শনাক্তকরণ

বিইআরসি নির্ধারিত দামের বাজারে অস্থিরতা: দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি এলপিজি ব্যবসায়ীদের

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ Time View
ছবিঃ সংগৃহীত

এলপিজি ব্যবসায়ীদের জন্য কমিশন বৃদ্ধি, বাজারে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক হয়রানি ও অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার টানা দুই দিন দেশব্যাপী সব এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার ধর্মঘট ঘোষণা করেছে ‘এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’। আগামী দুই দিনের মধ্যে উত্থাপিত দাবিগুলোর কার্যকর সমাধান না হলে পরবর্তীতে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান এই ধর্মঘটের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, সমিতির গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টানা দুই দিন সারা দেশের সব এলপি গ্যাস বিক্রয় কেন্দ্র ও দোকান বন্ধ রাখা হবে। এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আরও জোরদার কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এমন এক সময়ে ব্যবসায়ীদের এই ধর্মঘটের ডাক এল, যখন বাজারে সরকার নির্ধারিত বর্ধিত দামের চেয়েও অনেক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা পুনর্নির্ধারণ করে। তবে দেশের বিভিন্ন খুচরা বাজারে এই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে সাধারণ গ্রাহকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এমনকি জেলা প্রশাসকেরাও বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির চিত্র সম্পর্কিত প্রতিবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠিয়েছেন।

পরিবেশকদের সাফ কথা—বিইআরসি থেকে কমিশন না বাড়ালে তাদের পক্ষে নির্ধারিত সরকারি দামে এলপিজি বিক্রি করা একেবারেই অসম্ভব। তবে অন্যদিকে এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন ‘এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (লোয়াব) দাবি করছে, দেশে বর্তমানে এলপিজির আমদানি ও মোট সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নির্ধারিত সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বাজারে গ্যাস বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

কমিশন বাড়ানোর জোরালো দাবি

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম খান উল্লেখ করেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে বিইআরসি পরিবেশকদের জন্য প্রতি সিলিন্ডারে মাত্র ৫০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এরপর থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়, সিলিন্ডার ওঠা-নামানোর মজুরি, গুদামভাড়া এবং সরকারি লাইসেন্স ফি বহুগুণ বেড়েছে। এ ছাড়া অলস পড়ে থাকা অতিরিক্ত সিলিন্ডারের কারণে ব্যবসায়ীদের ক্রমাগত লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই সার্বিক খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি সিলিন্ডারে কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর নিজেদের কমিশন বাড়ানোর এই দাবি জানিয়ে বিইআরসিতে একটি লিখিত চিঠি দেয় সংগঠনটি। চিঠিতে ব্যবসায়ীরা খরচের হিসাব তুলে ধরে জানান, কোম্পানি থেকে একজন পরিবেশকের গুদামে একটি সিলিন্ডার আনতেই ৫০ টাকা খরচ পড়ে যায়। এরপর সিলিন্ডার ওঠা-নামানো ও খুচরা বিক্রেতার দোকানে পৌঁছাতে আরও ৩৫ টাকা ব্যয় হয়। তা ছাড়া কর্মচারীদের বেতন, গুদামভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য বাবদ খরচ হয় ২৫ টাকা। এর সঙ্গে মাত্র ৪০ টাকা মুনাফা ধরে সিলিন্ডারপ্রতি মোট ১৫০ টাকা কমিশন দাবি করেছেন তারা।

মাসে একাধিকবার দাম পরিবর্তনের অভিযোগ

সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, বিইআরসি প্রতি মাসের শুরুতে এলপিজির দর একবার নির্ধারণ করে দিলেও বেশ কিছু কোম্পানি ৫ থেকে ৭ দিন পরপর নিজেদের ইচ্ছেমতো দর পরিবর্তন করে। ফলে পুরো বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েন। তাঁদের দাবি, কোনো কোম্পানি এক মাসে একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করতে চাইলে তা অবশ্যই বিইআরসির বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। সেই সঙ্গে কোম্পানির বিক্রয় চালানে প্রকৃত বাজারমূল্য উল্লেখ করতে হবে। যেসব কোম্পানি পরিবেশকের গুদামে সরাসরি সিলিন্ডার পৌঁছে দেয় না, তাদের ন্যায্য পরিবহন খরচ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

সরবরাহ সংকট ও পড়ে আছে খালি সিলিন্ডার

সংবাদ সম্মেলনে দেশের এলপিজি বাজারে চলমান সরবরাহসংকট এবং ব্যাংকগুলোতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতার কথা তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। সেলিম খানের দাবি, বর্তমানে মাত্র ৬ থেকে ৭টি কোম্পানি ছাড়া সিংহভাগ কোম্পানিই বাজারে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। অনেক কোম্পানি ডলারের অভাবে এলসি খুলতে না পারায় সারা দেশে কয়েক লাখ খালি সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহে অক্ষম থাকা ওই সব কোম্পানির খালি সিলিন্ডারে সরকারি উদ্যোগে কিংবা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমেই পুনরায় রিফিল করে দ্রুত বাজারে সরবরাহের সুব্যবস্থা করার জোর দাবি জানানো হয়। এসব ফেলে রাখা খালি সিলিন্ডার কাজে লাগিয়ে বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত ৭ দফা দাবি: ১. জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি, লোড-আনলোডের ব্যয় ও অলস সিলিন্ডারের ক্ষতিসহ সার্বিক পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় প্রতি সিলিন্ডারে কমিশন ১৫০ টাকা বা বিক্রয়মূল্যের ৭% নির্ধারণ করা। ২. কোনো কোম্পানি মাসে একাধিকবার দাম পরিবর্তন করতে চাইলে তা বিইআরসির অফিসিয়াল ঘোষণার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা। ৩. দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহে অক্ষম কোম্পানির অলস সিলিন্ডারে সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে পুনরায় গ্যাস ভরার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৪. কোম্পানির অফিশিয়াল চালানে পণ্যের প্রকৃত দর উল্লেখ করা। ৫. যেসব কোম্পানি পরিবেশকের গুদামে সিলিন্ডার পৌঁছে দেয় না, তাদের ন্যায্য পরিবহন ভাড়া দেওয়া। ৬. সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও স্রেফ বডি বা রেলিংয়ের অজুহাতে সিলিন্ডার বহনকারী পিকআপ ও ট্রাকের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা দেওয়া বন্ধ করা। ৭. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ওপর ‘অনৈতিক ও অযৌক্তিক’ জরিমানা আরোপ বন্ধ করা।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জানুয়ারি প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানের প্রতিবাদে দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীতে বিইআরসির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং দাবি পূরণের আশ্বাসে ওই দিন বিকেলেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এবার টানা দুই দিনের দোকান বন্ধের কর্মসূচি এমন এক সময়ে এলো, যখন দাম ও সরবরাহ নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মন্তব্যে বিপরীতমুখী চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহসংকট ও বাড়তি পরিচালন খরচের কথা বললেও লোয়াব দাবি করছে দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আর এই টানাটানির মধ্যে পড়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশ চড়া দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

(তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক/এনএন)

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT