1. admin@banglarakash.com : admin :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদালতের নির্দেশে মালিকের কাছে ফিরছে ‘থানা হেফাজতে থাকা’ সেই আলোচিত হাতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন না এলে হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না: ইরান ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করছে নামিবিয়া জমি হারিয়ে দিনমজুরি, ভুলতে বসা মাতৃভাষা: উত্তরাঞ্চলে ওঁরাও জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই মগবাজারে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত ১, আশঙ্কাজনক ২ সহ আহত ৪ সালমান শাহ হত্যা মামলা: চিত্রশিল্পী ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন সিআইডির ‘জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে’: গণপূর্তমন্ত্রী কানাডায় দাবানলের তাণ্ডব: ধ্বংস বহু বাড়িঘর, ২০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ চাঁদপুরে সফল অস্ত্রোপচার: নারীর পেট থেকে বের হলো প্রায় সাড়ে ৬ কেজি ওজনের টিউমার বরিশালে লাল ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা!

জমি হারিয়ে দিনমজুরি, ভুলতে বসা মাতৃভাষা: উত্তরাঞ্চলে ওঁরাও জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ Time View
রংপুরের পীরগঞ্জে অন্যের ধানখেতে কৃষিশ্রমিকের কাজ করছেন ওঁরাও সম্প্রদায়ের এক প্রবীণ দম্পতি।
উৎসব-পার্বণে মাদলের সুর বাজলেও দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে ওঁরাওদের মাতৃভাষা ‘কুরুখ’। নতুন প্রজন্মের চর্চার অভাবে বিলুপ্তির পথে শত বছরের এই ঐতিহ্য।

দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:

ভোরের আলো ফুটতেই রংপুর অঞ্চলের ওঁরাও গ্রামগুলোতে শুরু হয় বেঁচে থাকার ব্যস্ততা। কেউ ছুটছেন অন্যের ধানখেতে কৃষিশ্রমিকের কাজে, নারীরা ব্যস্ত গৃহস্থালি ও গবাদিপশু পালনে, আর শিশুরা প্রস্তুতি নিচ্ছে স্কুলের। দৃশ্যত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মনে হলেও, দেশের উত্তরাঞ্চলের শত বছরের প্রাচীন ওঁরাও জনগোষ্ঠীর অন্তরালে চলছে ভূমি, নিজস্ব ভাষা ও ঐতিহ্য হারানোর এক কঠিন জীবনসংগ্রাম।

রংপুরের পীরগঞ্জের বড় পাহাড়পুর গ্রামের বুধু কুজুরের (৮২) মতে, ৫০ বছর আগেও এই গ্রামটি ছিল তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩০ বিঘা জমি হারিয়ে আজ তার সম্বল কেবল ৫ শতক বসতভিটা। একই দশা গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের। ৩৩টি পরিবারের মধ্যে এখন মাত্র তিনটির হাতে অল্প কিছু আবাদি জমি রয়েছে। অর্থাভাব, জমি সংক্রান্ত মামলার ব্যয় এবং স্থানীয় চাপে জমি বিক্রি করে অধিকাংশ ওঁরাও এখন ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক। জীবিকার তাগিদে অনেকেই ইটভাটা, নির্মাণকাজ ও মৌসুমি শ্রমে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন।

জমি হারানোর পাশাপাশি তাদের কুরুখ (Kurukh) ভাষাও চরম বিলুপ্তির মুখে। দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এই মাতৃভাষাটি এখন কেবল ৪০ উর্ধ্ব প্রবীণদের কথোপকথনেই সীমাবদ্ধ। প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যম বাংলা হওয়ায় নতুন প্রজন্ম কুরুখ ভাষায় কথা বলতে পারছে না, অনেকে তা বুঝতেও অক্ষম। কলেজের শিক্ষার্থী সুবর্ণা কুজুর জানান, তরুণরা ঐতিহ্য ধরে রাখলেও চর্চার অভাবে কুরুখ ভাষায় অভ্যস্ত হতে পারছে না। তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও তাদের সরহুল, কারাম ও সোহরাইয়ের মতো সনাতনী উৎসবগুলোতে মাদলের সুর ও লোকগীতি এখনো সংস্কৃতির জানান দেয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রায় ৮৫ হাজার ৮৪৬ জন ওঁরাও জনগোষ্ঠীর বাস। উত্তরাঞ্চলে ব্রিটিশ আমলে তারা এসে স্থায়ী বসতি গড়লেও শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং দারিদ্র্যের কারণে ওঁরাও শিশুরা মাঝপথে পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

নৃবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ওঁরাওদের এই সংগ্রাম কেবল একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সংকট নয়; বরং এটি নিজস্ব সংস্কৃতি ও সত্তা রক্ষার লড়াই। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা, ভূমির অধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না করা গেলে শত বছরের এই ইতিহাস ও ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT