বাংলার আকাশ ডেস্ক :
কাতারের দেওয়া একটি বিলাসবহুল উড়োজাহাজকে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে উন্মোচন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিমানটি এখন পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্টের সরকারি বহরে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিশেষভাবে উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্সিয়াল এয়ারলিফট গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ব্যবহারের আগে বিমানটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাই করতে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালিত হবে।
প্রায় ৪০ কোটি ডলার মূল্যের এই জেট বিমানটিতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং বিশেষ লজিস্টিক সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে।
শুক্রবার জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বিমানটিকে ‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এ উপহারের জন্য কাতারের আমিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিমানটির অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় সীমিত পরিবর্তন আনা হলেও বাহ্যিক অংশে নতুন রঙ ও নকশা সংযোজন করা হয়েছে। লাল, সাদা, নীল ও সোনালি রঙের সমন্বয়ে এটিকে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে কাতারের রাজপরিবার বোয়িং ৭৪৭-৮ মডেলের বিমানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্দেশ্য ছিল এটি প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান বহরে যুক্ত করা।
তবে বিমানটি গ্রহণের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। সমালোচকদের একাংশের মতে, এত উচ্চমূল্যের উপহার গ্রহণ স্বার্থের সংঘাত ও নৈতিকতা সম্পর্কিত প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিমানটি গ্রহণের প্রক্রিয়া আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের মেয়াদ শেষে বিমানটি তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে সংরক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।