২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় কমেছে। পাশাপাশি এবার জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ–৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই সেরা সাফল্য দেখিয়ে দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। সকালে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে—
*ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৩২৫৩ জন
*রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩.৬৭%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৬১১৩ জন
*কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫.৪২%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৯৮১৪ জন
*যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬.২৭%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ১১৪৭৮ জন
*চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯.৪৮%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৯৩৯৮ জন
*বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০.৩৫%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ২৭৭৮ জন
*সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮.৩৩%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৮৩৬ জন
*দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮.০৫%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৩৬৩৯ জন
*ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭.৩৯%; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৫৭০০ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। শিক্ষা বোর্ড প্রধানরা জানান, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফল এবং শিক্ষার্থীদের দেওয়া পছন্দক্রমের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে।
আউটলাইন ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ, যা গত বছর (২০২৫ সালে) ছিল ৬৮.০৪ শতাংশ। এ বছর পাসের হার কমেছে ৩.৯৯ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে মোট জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন (গত বছর ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন)। তবে ৯টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ অর্জন করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উত্তীর্ণের সংখ্যা ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি—উভয় ক্ষেত্রেই ছাত্রদের ছাড়িয়ে গেছে ছাত্রীরা। এবার ছাত্রদের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ–৫ পেয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ (জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩,৯৫১ জন) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ (জিপিএ–৫ পেয়েছে ৬,৭১৬ জন)।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে বড় ধরনের ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। এ বছর দেশের ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা গত বছরের (৯৮৪টি) তুলনায় কম। অন্যদিকে, দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী কোনো শিক্ষার্থীই পাসের মুখ দেখেনি (শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান)। গত বছর শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি, অর্থাৎ এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি। এ বছর দেশের মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা অংশ নিয়েছিল।