ডিজিটাল বা অনলাইনকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধ ও কঠোরভাবে দমনে কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা থেকে শুরু করে একবারে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’-এর সার্বিক কার্যক্রম বিস্তৃত করার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “দেশের বিচারব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর যথাযথ প্রত্যয়ন অত্যন্ত জরুরি। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধের কৌশল ও ধরন পাল্টে যাওয়ায় সময়ের দাবিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।”
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নবনির্মিত ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ ভবন ও অত্যাধুনিক ‘ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত কিম জি-ঝুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি (হেডকোয়ার্টার) সরদার নুরুল আমিন এবং সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসান মুহাম্মদ শওকত আলী ও জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্বে অপরাধের চেনা ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। সাইবার ক্ষেত্র বা ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করে অভিনব সব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা থেকে শুরু করে শেয়ারবাজারে কারসাজির মতো বড় বড় অর্থনৈতিক অপরাধও হচ্ছে এই সাইবার জগতে। এসব জটিল অপরাধ প্রতিরোধ ও দ্রুত অপরাধী শনাক্তে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পুলিশের একটি স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা শুরু থেকেই ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পুলিশ সাইবার ইউনিট’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। বর্তমানে একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নেতৃত্বে এ ইউনিট পরিচালিত হচ্ছে। আজ উদ্বোধিত ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারটি সিআইডির অধীনে পরিচালিত হলেও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, সাইবার পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে একদম বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল বিশ্লেষণের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এ ছাড়া বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও সাইবার ইউনিটের বিশেষ পরীক্ষাগার সুবিধা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিআইডি শুরু থেকেই রাসায়নিক পরীক্ষাগারের মাধ্যমে ভিসেরাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে। সময়ের প্রয়োজনে এসব কেমিক্যাল ল্যাবের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি।
চট্টগ্রামে এই বিশেষায়িত কেন্দ্র ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব নির্মাণে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা প্রদান করায় কোরিয়া প্রজাতন্ত্র সরকার এবং কোরিয়ান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাকে (কইকা) আন্তরিক ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে— ‘সেফার সাইবারস্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় দেশজুড়ে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসারের সাথে সাথে আর্থিক প্রতারণা, ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি, ডিজিটাল হুন্ডি ও ডার্কওয়েবকেন্দ্রিক নানা অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অপরাধের গতিপথ চিহ্নিত করতে আধুনিক তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
(সূত্র: বাসস)